রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দিতে যে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন, সেসবের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএনপি বিরোধিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তারা নিজেদের ঘোষিত কর্মসূচি, সংস্কার এমনকি ইশতেহারেরও বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে কীসের বিরোধিতা করছে—সেই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, বিএনপি এখন প্রতিটি ইস্যুতেই ‘কথিত পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ’ অনুসরণ করছে।
‘আমরা একসময় একসঙ্গেই নিপীড়নের শিকার ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, হাজার চেষ্টা করলেও আপনারা ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না—হয়তো দুর্বল সংস্করণ হতে পারেন, যারা জাতি ও বিরোধী দলকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত,’ বলেন তিনি।
গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের সংস্কারের পক্ষে রায়কে অগ্রাহ্য করাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই রায় বাস্তবায়িত হলে দেশ থেকে প্রকৃত অর্থেই ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।’
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের সেই আত্মত্যাগ না থাকলে আজ আপনারা ক্ষমতার স্বাদ পেতেন না। এই মা-বাবা, ভাই-বোনদের প্রিয়জনেরা জীবন দিয়েছেন বলেই আজকের এই বাস্তবতা।’
আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও অবদান অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু তীরে ভেড়াতে পারিনি—জুলাইয়ের নায়করা সেই তরী ঘাটে তুলেছেন, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তাদের সম্মান করতে শিখুন, অবমূল্যায়ন করবেন না।’
সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। নেত্রকোনায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলার উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কেমন বাংলাদেশ? এমন বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম?’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন জামায়াত আমির।
‘আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে দা-কিরিচ-কুড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী এসে আমাদের সন্তানদের ওপর দাপট দেখাক—এটা মেনে নেওয়া যায় না। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। না হলে মনে রাখবেন, জুলাই শুধু চব্বিশেই সীমাবদ্ধ নয়—প্রয়োজনে আবার ফিরে আসবে,’ বলেন তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানে হাত হারানো আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায়কে দমন করতে চাইলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান বলেন, ‘জাতির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার সংসদে জুলাই শহীদদের অপমান করছে।’

