বাজারে আসছে গুগলের ‘অডিও গ্লাস’

স্মার্ট চশমার বাজারে সদর্পে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে গুগল। প্রায় এক দশক আগে ‘গুগল গ্লাস’ প্রকল্প শুরু করলেও তেমন সাড়া পায়নি গুগল। বরং ওই পণ্যটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। 

এবার সেই বদনাম ঘুচাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসহ নতুন স্মার্ট চশমা বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে গুগল।  

গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলনে এ বিষয়ে ঘোষণা আসে। 

আই/ও ২০২৬ নামের সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা ডিভাইসের সঙ্গে এআই সেবা যুক্ত করার অঙ্গীকার জানান। 

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘অডিও গ্লাস’ তৈরি করছে গুগল। 

এই প্রকল্পে চশমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ারবি পার্কার ও জেন্টল মনস্টারকে অংশীদার হিসেবে পাশে পাচ্ছে গুগল। এ ছাড়া, স্যামসাং-এর কাছ থেকেও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেবে গুগল। 

এই চশমাগুলো অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের ফোনের সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

পরিকল্পনা মতে এ বছরেই বাজারে আসবে গুগলের অডিও গ্লাস। 

বাজারে প্রচলিত অন্যান্য স্মার্ট গ্লাসে ভিডিও ও ভিজুয়াল ডিসপ্লের দিকে বেশি জোর দেওয়া হলেও গুগলের নতুন এই পণ্যে অডিওর দিকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। 

ইউজাররা ‘ভয়েস কমান্ড’ বা মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। এ কারণেই এর নাম ‘অডিও গ্লাস’। 

নতুন এই ডিভাইসগুলো খুব সহজেই জেমিনাই এআই ইঞ্জিনসহ গুগলের অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে।  

সম্মেলনে গুগলের এক কর্মকর্তা চশমাকে মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে দোকান থেকে কফির অর্ডার করেন। এতে উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হন। 

এই ডিভাইসে টাইপ না করে বা হাত ব্যবহার না করে শুধু মৌখিক নির্দেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ সারার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

২০১০ সালের দিকে বাজারে আসে গুগল গ্লাস। তবে শুরু থেকেই এই পণ্যটি ছিল বিতর্কের কেন্দ্রে। 

ইউজারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে হুমকি, ডিজাইনের সীমাবদ্ধতা ও সার্বিকভাবে, সমাজের সর্বস্তরে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।   

‘নজরদারি পণ্য’ আখ্যা দিয়ে অনেকেই গুগল গ্লাস বর্জনের ডাক দেন।  

তবে এরপর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বাজারে স্মার্ট চশমা এনে সেই নেতিবাচক পরিস্থিতি অনেকাংশেই দূর করেছে।

এআই, হার্ডওয়্যার ও ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষেরমনে এই প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। 

ইতোমধ্যে রে-ব্যানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মেটার স্মার্ট চশমা বাজারে সাড়া ফেলেছে। অন্যান্য স্টার্টআপ ও প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ধরনের ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে।
 

Related Articles

Latest Posts