ডারউইনে প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক উপহার দিয়েছিল বাংলাদেশ। অজিদের মাটিতে টাইগারদের এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগতিকদের জন্য বড় এক ‘ঝাঁকুনি’ বা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন স্টিভ ওয়াহ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে নিজের ২৭ বছর আগের একটি পুরনো প্রস্তাবের কথা আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও ডারউইন টেস্ট নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অজিদের সাবেক এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
ডারউইন টেস্টের প্রসঙ্গ টেনে স্টিভ ওয়াহ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জয় অত্যন্ত বিস্ময়কর। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে এটি আমাদের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে এভাবে ভালো করতে দেখা সত্যিই দারুণ বিষয়।’
বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ধরে রাখা এবং বিশ্বজুড়ে টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখার তাগিদ দিতে গিয়েই নিজের ২৭ বছর আগের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তোলেন ওয়াহ। ১৯৯৯ সালে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামকদের কাছে একটি বৈপ্লবিক প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন—আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে সব দেশের খেলোয়াড়দের জন্য ‘একই ও নির্দিষ্ট টেস্ট ফি’ চালু করা উচিত।
অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো শক্তিশালী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশের ক্রিকেটাররা টেস্ট খেলে অনেক কম অর্থ পান। স্টিভ ওয়াহ মনে করেন, এই বৈষম্য দূর না হলে ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি বা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বিশাল অর্থের দিকেই বেশি ঝুঁকবেন।
পুরনো সেই প্রস্তাবের কথা স্মরণ করে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘আজ থেকে ২৭ বছর আগে আমি একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম—বিশ্বের সব টেস্ট ক্রিকেটারের সমান ম্যাচ ফি পাওয়া উচিত। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা একজন ক্রিকেটার যেন ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারের সমান অর্থ পায়, সেই ব্যবস্থা করা দরকার। কিন্তু এত বছর পার হলেও তা চালু হয়নি।’
টি-টোয়েন্টির রঙিন দুনিয়া ছেড়ে কঠিন লাল বলের ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মকে ধরে রাখতে সার্বজনীন এই ফি কাঠামোর বিকল্প নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দেন অজি কিংবদন্তি।

