বরিশালে ববি শিক্ষার্থীর ও কিশোরগঞ্জ হাওরে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি মেস থেকে এক শিক্ষার্থীর পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের হাওরে নিখোঁজের একদিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি মেস থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার নামে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উচ্ছ্বাস কর্মকার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, উচ্ছ্বাস ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে একাই থাকতেন। গত দুইদিন ধরে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে কক্ষটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে পাশের শিক্ষার্থীরা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উচ্ছ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।’

বরিশাল বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহের সার্বিক অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুইদিন আগে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

এদিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরে নিখোঁজের একদিন পর কাউসার ইসলাম (৩২) নামে এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি নিখোঁজ হন।

কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার বে কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে বেড়াতে যান। ইটনার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছে তারা নৌকায় করে বগাডুবি সেতুর কাছে যান। দুপুরে সেতু-সংলগ্ন ডুবে থাকা সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার পানিতে তলিয়ে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি সাঁতার জানতেন না।

কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের সঙ্গে থাকা সাগর ইসলাম নামে আরেক সহকর্মী স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সকালে পুনরায় অভিযান চালিয়ে দুপুরে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পর্যটকসহ সবার প্রতি আমাদের অনুরোধ, যারা সাঁতার জানেন না তারা যেন পানিতে না নামেন। আর সাঁতার জানলেও স্রোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।’

তিনি জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Latest Posts