প্রায়ই বিশ্ব নেতাদের সমালোচনায় মাতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি তার নিত্যদিনের অভ্যাস বললে ভুল হবে না।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ভ্লাদিমির পুতিন, শি জিনপিং, ভলোদিমির জেলেনস্কি, জাস্টিন ট্রুডো, ইমানুয়েল মাখোঁ ও নরেন্দ্র মোদির মতো বড় বড় নেতাসহ আরও অনেক মানুষের সমালোচনায় মেতেছেন তিনি।
টেইলর সুইফট ও ব্রুস স্প্রিংস্টিনের মতো সঙ্গীত জগতের তারকারাও বাদ পড়েননি।
তবে এবার তিনি যেন নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন। ট্রাম্পের সমালোচনার সর্বশেষ শিকার হলেন পোপ চতুর্দশ লিও। ট্রাম্পের দাবি, পোপ দুর্বল। তিনি অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেন। অপরাধীকে শাস্তি দিতে আগ্রহী নন।
মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ‘সহিংসতা’ আখ্যা দেওয়ায় পোপের ওপর চটেছেন ট্রাম্প।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গতকাল রোববার গণমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি অত্যন্ত উদারপন্থি একজন মানুষ। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি অপরাধ দমনে বিশ্বাসী নন।’
তিনি পোপের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। বলেন, ‘পোপ এমন একটি দেশকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, যারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়।’
শনিবার ৭০ বছর বয়সী মার্কিন পোপ বৈশ্বিক সহিংসতা নিরসনের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সেইন্ট পিটার ব্যাসিলিকায় আগত পূণ্যার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আর নয় আত্মপূজা ও অর্থপূজা! আর নয় ক্ষমতার জাঁকজমক! আর নয় যুদ্ধ!’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে পোপকে এক হাত নেন ট্রাম্প।
আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি এমন একজন পোপ চাই না যিনি মনে করেন ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।’
ট্রাম্প বলেন, ‘পোপ লিওর উচিৎ কট্টর বামপন্থিদের স্বার্থসিদ্ধিতে সময় না দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। একজন মহান পোপ হিসেবে নিজে প্রতিষ্ঠা করার দিকে তার নজর দেওয়া উচিৎ, রাজনীতিবিদ হওয়ার দিকে নয়।’
এর আগে ‘দ্য ফ্রি প্রেস’ নামের সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়, যেখানে জানা যায় জানুয়ারিতে পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা চার্চের প্রতিনিধিকে কড়া কিছু বার্তা দিয়েছেন। মূলত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে পোপ লিওর সমালোচনার প্রবণতা নিয়েই সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে।
ইতোমধ্যে পেন্টাগন ওই প্রতিবেদনকে ‘বিকৃত’ বলে নাকচ করেছে।
প্রতিবেদন মতে, কার্ডিনাল ক্রিস্টফ পিয়েরেকে জানুয়ারিতে পেন্টাগনে ডেকে এনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি কিছু কড়া বার্তা দেন।
ওই সামরিক কর্মকর্তা কার্ডিনালকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আছে। আমরা চাইলেই খেয়ালখুশিমতো চলতে পারি। চার্চের উচিৎ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকা।’
ভ্যাটিকানও এ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র মাত্তেও ব্রুনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কতিপয় গণমাধ্যমে (চার্চের প্রতিনিধির সঙ্গে পেন্টাগনের কর্মকর্তার) বৈঠকের বিষয়ে যা বলা হয়েছে তার সঙ্গে প্রকৃত সত্যের কোনো মিল নেই।’
উভয় পক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চার্চের মতভেদের বিষয়টি গোপন নয়।
প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসীদের গণবহিষ্কার অভিযান, মধ্যপ্রাচ্য ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়গুলোকে পোপ ‘অমানবিক’ আখ্যা দেন, যা ভালো ভাবে নেননি ট্রাম্প।
গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক হুমকি দেন পোপ। তিনি বলেন, ‘একটি গোটা সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হবে। তারা আর কখনোই ফিরে আসবে না।’ সে সময় পোপ এই বিবৃতিকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ আখ্যা দেন এবং সংশ্লিষ্টদের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সংবাদে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পোপ বলেন, ‘এটি আশাবাদী হওয়ার মতো বিষয়।’

