নিউজিল্যান্ডকে আড়াইশোর নিচে আটকে রাখল বাংলাদেশ

সতর্ক শুরুর পর নিউজিল্যান্ডকে টানছিলেন হেনরি নিকোলস। পরে দ্রুত রান বাড়িয়ে ফিফটি পান ডিন ফক্সক্রফটও। তবে প্রতিপক্ষকে বেশি দূর বাড়তে দেননি শরিফুল ইসলাম। মোস্তাফিজুর রহমানের চোটে শেষ মুহূর্তে একাদশে বাঁহাতি পেসারের দারুণ বোলিংয়ে আড়াইশো ছুঁতে পারেনি কিউইরা।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করেছে নিউজিল্যান্ড। ৮৩ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন নিকোলস। ফক্সক্রফট ৫৮ বলে করেন ৫৯ রান। ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার শরিফুল। অথচ এই ম্যাচ খেলার কথা ছিলো না শরিফুলের। টিম শিটে নামও ছিলো না তার। টসের ঠিক আগে মোস্তাফিজ হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় একাদশে আসে বদল। কোচ ফিল সিমন্স দ্রুত ছুটে টসের খানিক আগে টিম শটে আনেন বদল। তাতে টস কিছুটা দেরিতে হয়। শেষ মুহুর্তেই এই বদলই হয়ে উঠল নাটকীয়ভাবে কাজে লেগে গেল।

পুরো দিনের আলোয় ওয়ানডে ম্যাচ অনেকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অচেনা। উপমহাদেশে উইকেট যেমনই হোক দিনের আলোয় ৫০ ওভারের ম্যাচে আগে ব্যাট করাই সহায়ক মনে করা হয়। কারণ পরের দিকে ব্যবহৃত উইকেট কিছুটা হলেও মন্থর হয়ে পড়ে। টসটা সেদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অনভিজ্ঞ দল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ টস জিতে টম ল্যাথাম আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অনুমিতভাবে।

তাদের শুরুটা অতি সতর্ক পথে। বিশেষ করে নিক কেলি আড়ষ্ট থেকে প্রথম পাওয়ার প্লের রানরেট মন্থর করে দেন। শরিফুলের দারুণ বলে ২৩ বলে ৭ রান করে বোল্ড হন কেলি।

এরপর তিনে নামা উইল ইয়ংকে নিয়ে দারুণ জুটি পান নিকোলস। ইয়ং অবশ্য ক্রিজে এসেই জীবন পান। ১ রানে শরিফুলের বলে তার সহজ ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন সাইফ হাসান। এরপর কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে এগোতে থাকেন তারা। অনেকটা শক্ত ভিত তৈরি হয়ে যায় তাতে।

৮৮ বলে ৭৩ রানের জুটি ভাঙে ইয়ংয়ের বিলাসী চেষ্টায়। রিশাদ হোসেনের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪২ বলে ৩০ করা ডানহাতি ব্যাটার।

নিউজিল্যান্ডের এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার নিকোলস আর ল্যাথাম এরপর বাঁধেন জুটি। তবে তাদের বিপজ্জনক হতে দেয়নি বাংলাদেশ। জুটিটা (৩২ বলে ৩৩) জমে উঠতেই আঘাত হানেন মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের দারুণ কুইকারে বোল্ড হন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক (১৫ বলে ১৪)। সঙ্গীর বিদায়ের ধাক্কায় নিকোলসও পথ ধরেন ড্রেসিংরুমের। রিশাদের বলে তিনিও রিভার্স সুইপ করতে গিয়েছিলেন। বলে-ব্যাটে না হওয়ায় কিপার লিটন দাস ধরেন সহজ ক্যাচ।

নিকোলসের ৮৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস থামার পর ভালোভাবেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গে মোহাম্মদ আব্বাস জুটির চেষ্টা করলেও বেশিদূর যাননি। থিতু হওয়া (৩০ বলে ১৪) আব্বাসকে অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে এসে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান শরিফুল।

ফক্সক্রফট ক্রিজে টিকে বাড়াতে থাকেন রান। জশ ক্লার্কসনকে নিয়ে ৩৪ বলে যোগ করেন ২৭ রান, এতে তারই অবদান বেশি। আরেক পাশে থিতু হওয়ার চেষ্টায় থাকা ক্লার্কসন ১৬ বলে ৮ রান করে হন বোল্ড। তাসকিন আহমেদের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি।

ফক্সক্রফট দমে না গিয়ে তোলেন ফিফটি, স্লগ ওভারে রান বাড়ানোর কাজটা করছিলেন তিনি। তবে শেষটা টানতে পারেননি। নাহিদ রানাকে দুই চার মারার পর ইয়র্কারে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হন। শেষ দিকে আড়াইশো পার করাতে পারেননি ন্যাথান স্মিথ।

 

Related Articles

Latest Posts