এই বিশ্বকাপ যেন আর্জেন্টিনার একের পর এক রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার বিশ্বকাপ হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই চাপের মুখে পড়েও ম্যাচ বের করে এনেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রবল চাপের মুখে দেখা মিললো সেই ক্ষুধার্ত আর্জেন্টিনার। দলটির কোচ লিওনেল স্কালোনিও বলছেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই এই দলের সেরাটা বের হয়ে আসে।
কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অনবদ্য কামব্যাকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন স্কালোনি। সেখানে এই দলের প্রতি একরাশ মুগ্ধতা ও দলের হার না মানা মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
স্কালোনি বলেছেন, ‘আমি মন থেকে বিশ্বাস করি, এই দল যখন প্রচণ্ড চাপে থাকে, তখনই তাদের সেরা ফুটবল বেরিয়ে আসে। যখন আমরা সংগ্রাম করতে থাকি, আর প্রতিপক্ষ তিল পরিমাণ সংশয়ে ভোগে, তখনই আমরা জয়ের গন্ধ শুঁকতে শুরু করি এবং আমাদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই দল আমাকে ঠিক এই অনুভূতিটাই দেয়’।
দলের এমন অদম্য মানসিকতায় মুগ্ধ স্কালোনি বলেছেন, এমন পারফরম্যান্সের পর হেরে বিদায় নিতে হলেও তার কোনো আক্ষেপ থাকতো না, ‘আমি খুশি কারণ আমার দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেছে। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে মৌলিক বিষয়। আজ যদি আমরা বিদায়ও নিতাম, তাও আমি জানতাম যে মাঠে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি’।
স্কালোনি আরও বলেছেন, দ্বিতীয়ার্ধে গোল খাওয়ার পরই তার দলের আসল রূপ বেরিয়ে এসেছে, ‘তাদের (ইংল্যান্ডের) গোলের পর আমরা দেখিয়েছি, ফুটবল আসলে কেমন হওয়া উচিত। ফুটবল মানেই কেবল ট্যাকটিকস, কৌশল বা আকর্ষণীয় ফুটবল নয়। আমরা যে ধরনের ফুটবলে বিশ্বাস করি, শেষ ৪০ মিনিটে ঠিক সেটাই মাঠে প্রতিফলিত হয়েছে’।
নিজের খেলোয়াড়দের একেকজন ‘জেদি যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়েছেন মেসিদের কোচ, ‘তারা প্রত্যেকে একেকজন যোদ্ধা। তারা এমন পরিবেশে বেড়ে উঠেছে যেখানে ভয় বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। তারা সবসময় লড়াকু ছিল, সেরা হয়ে ওঠার বাসনা ছিল। দায়িত্ব কাঁধে এলে তারা নুইয়ে পড়ে না। ম্যাচের শেষ ১৫-২০ মিনিটেও ওরা পায়ে বল চায়। ওদের একজনের মনেও একবারের জন্য এই ভাবনা আসেনি, কী হবে যদি আমি কোনো ভুল করি আর আমরা সেমিফাইনালটা হেরে যাই?’
আর্জেন্টিনার এই দলটাকে একটা পরিবার মনে করেন স্কালোনি, ‘গোটা জীবন ধরে তারা যেটা করে এসেছে, আজও ওই ফুটবলটাই তারা খেলতে চেয়েছে। তারা একটা পরিবারের মতো। একটা বলও তারা প্রতিপক্ষের কাছে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওরা লড়াই করতে জানে। আমরা অবশ্যই ফাইনাল জেতার চেষ্টা করব, কিন্তু সত্যি বলুন তো, এই দলটার আর কী কী করা বাকি আছে?’

