ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হোটেলটির মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে ফ্লারিশ স্টে হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই আগুনে পুড়ে যায় হোটেল ভবনটি। এতে অন্তত নয়জন ভারতীয় নাগরিকসহ কয়েকজন বিদেশি নিহত হন।
গতকাল বুধবার রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১২ জন বিদেশি নাগরিক।
এর আগে সিএনএন-এর সহযোগী সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ জানায়, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও লাইবেরিয়ার নাগরিক আছেন।
অপরদিকে, এই ঘটনায় অন্তত ৫ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, আগুনের ঘটনায় আহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে ৩ জন ম্যাক্স হাসপাতালে ও অপর ২ জন সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা গতকাল বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।
হাইকমিশন সার্বক্ষণিকভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোক জানিয়ে হাইকমিশনের বিবৃতিতে শোকসন্তপ্ত সব পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও আহত বাংলাদেশিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।
ভারতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের ঘাটতি এবং নিরাপত্তাবিধি অমান্য করার কারণে ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
শহরের ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় অবস্থিত ফ্লারিশ স্টে হোটেলে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ওপরের তলায় আটকে পড়া লোকজনকে নিচে পাতা গদির ওপর লাফ দিতে দেখা যায়।
গুরুতর দগ্ধ হওয়া ছাড়াও ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে হাড় ভাঙাসহ বিভিন্ন আঘাত নিয়ে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

