নয়াদিল্লিতে চলছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ ও ১০টি অংশীদার দেশ নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটের বার্ষিক সম্মেলন। আজ রোববার সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিন।
ব্রিকসের ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
এর বাইরে আরও ১০টি দেশ অংশীদার হিসেবে এই জোটে অংশ নিচ্ছে।
দিল্লিতে ১১ সদস্যের এই জোট এক দিন আগে সর্বসম্মতভাবে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬’।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রিকসের ‘আরও বিস্তৃত পরিসর ও বড় লক্ষ্য’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে।
আজ রোববার ভারতীয় দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকের মূল অধিবেশনটি নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হবে। এটি প্রগতি ময়দান কমপ্লেক্সের একটি অত্যাধুনিক সম্মেলনকেন্দ্র।
সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে ভারত এবারের সম্মেলনের আলোচনার চারটি স্তম্ভ হিসেবে সহনশীলতা, উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
আজকের বৈঠকে মূলত এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হবে।
এই অধিবেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা’। এই অধিবেশনে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে প্রযুক্তি।
আলোচ্যসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো ও ফিনটেকের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহনশীলতাও আলোচ্যসূচির একটি অংশ।
এর আওতায় বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, স্বাস্থ্য সংকট ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে—সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নীতি সমন্বয়, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য সহজীকরণ ও বহুপক্ষীয় শাসনব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা থাকবে।
চতুর্থ স্তম্ভে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো, সবুজ অর্থায়ন, জ্বালানি খাতে রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়ন। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব উন্নয়ন অগ্রাধিকারও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
গত শনিবার নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণের পর আজ দ্বিতীয় দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘এই ঘোষণায় উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্রিকস দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহযোগিতাকে “আরও বাস্তবভিত্তিক, উন্নয়নমুখী ও কার্যকর” করে তোলা।’
‘ঘোষণাটি গ্রহণের জন্য ব্রিকসের সব সহযোগী দেশ ও তাদের নেতাদের ধন্যবাদ জানাই,’ যোগ করেন তিনি।
গত ১ জানুয়ারি ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে ভারত।
ব্রিকসের বর্তমান সদস্য দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এ ছাড়াও ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশ হলো: বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

