আরও একটি নকআউট ম্যাচ, আরও একবার কষ্টার্জিত জয় আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের চোখধাঁধানো গোলের পাশাপাশি লাউতারো মার্টিনেজের গোলে দশ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধে পাওয়া গোল ধরে রেখে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে নাজেহাল করে ছাড়ে সুইজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে ফলও পায় মুরাত ইয়াকিনের দল। রিকার্দো রদ্রিগেজের সাথে দারুণ ওয়ান-টু এর মাধ্যমে সুইসদের সমতায় ফেরান পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা ড্যান এনডোয়ে।
আর্জেন্টিনাকে যখন চেপে ধরেছে সুইসরা, তখনই ধাক্কা খায় দলটি। ডাইভ দেয়ার অপরাধে ৭১ মিনিটে ভিএআরের সাহায্যে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এম্বোলো। কিন্তু একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা নির্ধারিত সময়ে কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
গোলের সুযোগ যে আর্জেন্টিনা পায়নি তা নয়। ৮৫ মিনিটে বড় একটি সুযোগ মিস করেছেন মেসি নিজেই। পারেদেসের দারুণভাবে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন মেসি, কিন্তু কোবেলকে পরাস্ত করতে পারেননি। রেফারি প্রথম অফসাইডের বাঁশি বাজালেও রিপ্লেতে দেখা গেছে, গোল হলে হয়তোবা ভিএআরে অফসাইডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারতো।
৯০ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টারও। কিন্তু তার লক্ষ্যহীন হেড বারের উপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরও একবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া ডান পায়ের বাঁকানো শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে গেলে গোলশূন্যই থাকতে হয় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। আর যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দূরপাল্লার শট কোবেল দারুণ দক্ষতায় ফেরালে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
একের পর এক বদলি খেলোয়াড় নামিয়েও সুইসদের গোলমুখ খুলতে পারছিলেন না স্কালোনি। আলমাদা-গঞ্জালেজরা খেলায় গতি এনেছেন ঠিকই, কিন্তু গোলের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেননি। খেলা যখন এগোচ্ছিলো পেনাল্টি শুটআউটের দিকে, তখনই জাদুকরী মুহূর্ত নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির এই বিশ্বকাপে প্রায় অদৃশ্য হয়ে থাকা হুলিয়ান আলভারেজ।
১১২ মিনিটে মেসির বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শট সুইস গোলরক্ষক কোবেল ফিরিয়ে দিলেও বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শটে জাল খুঁজে পান হুলিয়ান আলভারেজ। গোলটি অনেকটা আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই কেপ ভার্দের সিডনি লোপেজ কাবরালের গোলকে মনে করিয়ে দিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে আলভারেজের এটি প্রথম গোল।
২-১ ব্যবধানেই যখন খেলার নিষ্পত্তি হবে মনে হচ্ছিল, তখন ১২০ মিনিটের পরে যোগ করা সময়ে তড়িৎ প্রতিআক্রমণ থেকে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন আরেক স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। কোবেলকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি থিয়াগো আলমাদা, রিবাউন্ড থেকে বল পেয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেন লাউতারো।
কষ্টার্জিত এই জয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখলো লাতিন পরাশক্তিরা। আগের পাঁচবারের মধ্যে প্রতিবারই সেমিফাইনাল জিতে ফাইনাল পর্যন্ত গেছে আলবিসেলেস্তেরা। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেসিদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

