‘তিনি মিথ্যা বলছেন’, আয়ালাকে ধুয়ে দিলেন ওলমো

বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ যেন মাঠ ছাড়িয়ে মাঠের বাইরেও থামছে না। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্প্যানিশ তারকা দানি ওলমোর ঘাড়ে আঘাত করেছিলেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। সেই ঘটনার পর আয়ালার প্রকাশ্যে দেওয়া ক্ষমা চাওয়ার বক্তব্যকে স্রেফ ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে সেদিনের আক্রমণের তীব্র সমালোচনা করেছেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের রাতে স্পেনের ১-০ গোলের জয়ের পর দু’দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক হাতাহাতি তৈরি হয়। টিভির ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়, আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে গাভিকে মাটিতে ফেলে মুখ চেপে ধরছেন। আরেক দিকে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ও সাবেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার আয়ালা স্প্যানিশ তারকা ওলমোর ঘাড় চেপে ধরেছেন।

ফাইনালের রেশ কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলে ওলমোর কাছে অনুতপ্ত থাকার কথা জানিয়ে আয়ালা বলেছিলেন, কোনো এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এমনটা করে ফেলেছিলেন।

এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি কাতালান সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারি দে তেরাসাকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন ওলমো। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ক্ষমা চান অথচ কোনো এক মন্তব্যের অজুহাতে ঘুষি মারার বিষয়টিকে ন্যায়সংগত প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন, তিনি সত্যিটা বলছেন না। তিনি মিথ্যা বলছেন। আমি তাকে কিছুই বলিনি, তাই তার ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। নিজের ভুলকে নম্রতা, সততা ও মর্যাদার সঙ্গে স্বীকার করে নেওয়ার সাহসের ওপরই একজন মানুষের আসল পরিচয় নির্ভর করে।’

এর আগে এই অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন রবার্তো আয়ালা। ‘ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিওকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রতিক্রিয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ওলমোর উসকানিমূলক মন্তব্যকেই দায়ী করেছিলেন তিনি। আয়ালা বলেছিলেন, ‘অবশ্যই আমি দুঃখিত। আমার অবস্থানে থেকে প্রতিপক্ষের কোনো মন্তব্য বা আচরণে জড়িয়ে মেজাজ হারানো উচিত হয়নি। তবে বিষয়টিকে ঘাত-প্রতিঘাত বলে না বাড়িয়ে সেখানেই ইতি টানা দরকার। ওটা কোনো ঘুষি ছিল না, একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল মাত্র।’ মুখোমুখি দেখা হলে সরাসরি ওলমোর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান এই সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা।

তবে ওলমো মনে করেন, বিষয়টিকে শুধু ম্যাচ শেষের সাধারণ বাকবিতণ্ডা হিসেবে দেখে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পেশাদার ফুটবলার ও কোচদের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমার সন্তান, পরিবার এবং কোটি ভক্ত যখন আমাদের খেলা দেখে, আমি চাই তারা যেন আমাদের খেলা ও আচরণের ওপর গর্ব করতে পারে। ফুটবলার হিসেবে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে উদাহরণ, আর সেই জায়গায় আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।’

ফাইনালে বাঁশি বাজার পর বিতর্কিত আচরণের জন্য আয়ালার পাশাপাশি পুরো আর্জেন্টাইন দলই এখন সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে পারেদেস সহ বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ছিলেন আগ্রাসী। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে শৃঙ্খলাভঙ্গের এসব ঘটনায় ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

 

Related Articles

Latest Posts