ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ২ সার্ভিস সেতু উন্মুক্ত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

দুই লেনবিশিষ্ট প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনের পর সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যানজটমুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।

একইসঙ্গে ঢাকার চারপাশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমের যোগাযোগব্যবস্থায় নগরের অ্যাট-গ্রেড সড়ক ব্যবহার না করেই এলিভেটেড ওয়ের মাধ্যমে পারাপারের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার জানা এবং দেখা মতে, যত প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে চলেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটি। প্রকল্পটি স্থবির হয়ে গিয়েছিল, বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেই  অবস্থা থেকে প্রকল্পটি কার্যকর করার জন্য যেসব বরাদ্দ ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার, এই সরকার তা নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমি খুশি হয়েছি এই প্রকল্পের মান এবং এর বাস্তবায়নের তড়িৎগতিতে। প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি কাজ শেষ হয়েছে। সাড়ে তিন বছর আমরা এই প্রকল্পের এক্সটেনশন করেছি। এই প্রকল্পে মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে গত ছয় মাসে যে কাজ হওয়ার টার্গেট ছিল, তার চেয়ে অধিক কাজ সম্পন্ন করেছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বক্তব্য দেন।
 

তুরাগ পারাপারে লাগবে না টোল

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি আর রাখা হচ্ছে না। ফলে নতুন সার্ভিস সেতু ব্যবহার করে টোল ছাড়াই তুরাগ নদ পার হওয়া যাবে।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের শুধু মাঝের চার লেনে টোল নেওয়া হবে। তবে আজ যে অংশ চালু হয়েছে, এতে চলাচলে কোনো টোল লাগবে না।

চালক ও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুটি সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির কথা জানিয়েছেন।

আব্দুস সাত্তার নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে আমাদের ভোগান্তি ছিল। সেতু দুটি উন্মুক্ত হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেলাম। পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আমাদের এলাকার জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

আকাশ মিয়া নামে এক প্রাইভেটকারচালক বলেন, আগে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। এখন আশা করছি কমে যাবে। অনেক ভালো লাগছে। এখন দ্রুত যেতে পারব।

প্রকল্পের অগ্রগতি ৭২ শতাংশ

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

তবে নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কাজ ধীরগতিতে চলায় আশুলিয়া ও আশপাশের মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। পরে কাজের গতি বাড়ানো হলে জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশে পৌঁছায়।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের পাশাপাশি নতুন নকশায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তিনতলা দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের আরও একটি বড় অংশ চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মূল প্রকল্পের কাজ প্রায় সমাপ্তির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় যুক্ত হওয়া এক্সটেনশন কাজও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts