ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইন চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সীমান্তের ৩৪৯/৭ এস নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, ৩ পুরুষ, ৪ নারী ও ৪ শিশুকে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দেখা যায়। পরিচয় যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করে কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাঠানো যায় না।
ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা নিজ নিজ সীমান্তের পাশে অবস্থান নেন। আর ওই ১১ জনকে আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত ভারতীয় ভূখণ্ডের সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়।
এ বিষয়ে বিজিবির মশালগাঁও ক্যাম্প ও বিএসএফের বাহারগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো সমাধান ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা অবস্থান করছেন। আর ওই ১১ জন প্রচণ্ড রোদে একটি ফসলের খেতে বসে আছেন।
দিনাজপুর-৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কথিত পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, বিএসএফের দাবি, ওই ১১ জন বাংলাদেশের নাগরিক। তবে আমরা এখনো তাদের পরিচয় যাচাই করতে পারিনি। পরিচয় নিশ্চিত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
মঈন হাসান আরও বলেন, বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে ও সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

