তৌকীর আহমেদ একজন অসম্ভব মেধাবী অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। তার পরিচালিত ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্রটি ব্যাপকভাবে প্রশংসা পেয়েছে। ‘অজ্ঞাতনামা’ ও ‘হালদা’ চলচ্চিত্র দুইটি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও পুরস্কার-প্রশংসা অর্জন করেছে।
বহু বছর আগে নির্মাণ করেছেন বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র ‘দারুচিনি দ্বীপ’, যা এখনো মানুষের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ পরিচালনা করেছেন। সব মিলিয়ে সাতটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি।
এ সময়ে এসেও মঞ্চ নাটক ‘তীর্থযাত্রী’-এর নির্দেশনা দিচ্ছেন। অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের পর নাটক নির্মাণ করেও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন।
১৯৮৮ সালে ‘ফিরিয়ে দাও অরণ্য’ নাটক দিয়ে বিটিভির পর্দায় অভিষেক হয় তৌকীরের। প্রথম নাটকে মাদকাসক্ত যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সবার মন জয় করে নেন তিনি।
অভিনয় শিল্পী সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক তিনি।
সম্প্রতি জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ করলেন এই নন্দিত তারকা।
গতকাল রোববার শিল্পকলা একাডেমিতে বসে দ্য ডেইলি স্টারের সাথে কথা বলেছেন তৌকীর আহমেদ।
৬০ বছরে এসে জীবনকে কিভাবে দেখছেন? এই প্রশ্নের জবাবে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘সব বয়সের একটা সৌন্দর্য আছে। এই বয়সেরও নিশ্চয়ই আছে। তবে, জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা খুব স্পষ্ট। জীবন সম্পর্কে ধারণা হচ্ছে— এটি মূলত সময় নষ্ট করার খেলা। আমরা প্রত্যেকে বিভিন্নভাবে সময় পার করি। খেলা দেখে, সিনেমা দেখে, গান শুনে, ঘুমিয়ে, অনেকভাবে। এই খেলাটি ভীষণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে তখনই, যখন কেউ সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠে।’
‘কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। কিন্তু, আমি এটাও জানি যে অর্থ খুবই প্রয়োজনীয়’, যোগ করেন তিনি।
তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা এখন বুঝতে পারি একজীবন শেষ করে এসেছি। বাকি যে দিনগুলো আছে তা কাজে লাগাতে হবে। ৭০-৮০ দশকে আমাদের গড় আয়ু কম ছিল। একটা সময় আমাদের গড় আয়ু যখন ৪৬ বছর ছিল তখন উন্নত বিশ্বে মানুষ একশ বছর বেঁচে থাকতো। গুণগত মানটাও দেখতে হবে। বেঁচে থাকাও দরকার এবং একইসঙ্গে সময়টাকেও কাজে লাগানো দরকার।’
সাতটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তৌকীর আহমেদ। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাতটি সিনেমা আমি বানিয়েছি। যদি পরিবেশ অনুকূলে থাকত তাহলে হয়তো আরো বেশি হতে পারতো। ১৪টি কিংবা ২১টি হতে পারতো। মজার ব্যাপার হচ্ছে, টেলিভিশনের জন্য প্রচুর কাজ করেছি। নাইওরী নামে একটি টেলিফিল্ম বানিয়েছিলাম। যা আলোচনায় ছিল। গুণগত মানে অনেক এগিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘নাইওরী দেখে তানভীর মোকাম্মেল বলেছিলেন এটা সিনেমা হতে পারত। যেহেতু টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে সে কারণে হয়তো অতটা গুরুত্ব পায়নি।’
‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রির যে ধারা তাতে মনে হয় আমাদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। কাজ আরো বেশি হতে পারত। কিন্তু কোয়ালিটি একটা বিষয়’, যোগ করেন তিনি।
শিল্পী বেঁচে থাকেন দুই তিনটি কাজ দিয়েই— এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিক। সহমত পোষণ করছি।’
সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘দেশের বা সমাজের সাথে মার্চ করেই চলতে হবে। এখানে যে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করেছে, সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সীমাবদ্ধতার মাঝেই কাজ করতে হবে।’
নতুন সিনেমা নিয়ে নিজের মতামত ডেইলি স্টারককে জানান তৌকীর।
তিনি বলেন, ‘অনেক দিন সিনেমা নির্মাণ করিনি। চলতি বছরের শেষ দিকে নতুন একটি সিনেমা বানাতে চাই। আমার শ্বশুর আবুল হায়াতকে সঙ্গে নিয়ে, তাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণ চরিত্র তৈরি করে কাজ করতে চাই। মঞ্চের কাজ তো আছেই।’
স্মৃতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্মৃতি আমাদের প্রতারিত করে। এতটাই প্রতারিত করে যে যাপিত জীবন আমরা ভুলে যাই। অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। অসাধারণ উপলব্ধি হচ্ছে।’

