রোববার দুপুর ১২টা। আগের রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টি তখনো ঝরছিল অবিরাম ধারায়। প্রায় গোটা রাজধানী শহর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকার অবস্থা দেখতে মতিঝিলের ইত্তেফাক মোড় থেকে কাকরাইল মোড় যাওয়ার জন্য একটি রিকশা ভাড়া করেন এই প্রতিবেদক।
গুগল ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, এই পথের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার। হেঁটে যেতে স্বাভাবিক সময়ে লাগে কমবেশি ৪০ মিনিট।
কিন্তু পানিতে ডুবে যাওয়ায় পুরোটা পথ পাড়ি দিতে সময় লাগল দেড় ঘণ্টা।
জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট যানজট এড়াতে উল্টোপথ দিয়ে ঘুরে আসার পর দেখা গেল, মধুমিতা সিনেমা হলের সামনের রাস্তা থেকে শুরু করে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত পুরো সড়কে পানি ছিল।
আসল ভোগান্তি শুরু হলো শাপলা চত্বর পার হওয়ার পর। রিকশা যখন নটরডেম কলেজের সামনে, ততক্ষণে সড়কে জমে থাকা পানি রিকশার পা-দানি অতিক্রম করে আরও উপরে উঠছে। একপর্যায়ে পানি আরও প্রায় ৪ ফুট উঁচু হয়ে যাত্রীর বসার সিট পর্যন্ত উঠে গেল।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রিকশাচালক মোতালেব রিকশা থামালেন। বলেন, ‘এই পানির মধ্যে রিকশার প্যাডেল দেওয়া যাচ্ছে না। পাশ দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় স্রোতে রিকশা দুলছে। এভাবে রিকশা চালানো যাবে না।’
নটরডেম কলেজ থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক অন্তত ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে ছিল। সড়কের মাঝের রোড ডিভাইডারটিও তখন পানির নিচে।
এই সড়কে বেশ কয়েকটি বাসসহ অন্তত ৬০টি যানবাহন পানির মধ্যে বিকল হয়ে আটকে থাকতে দেখা যায়।
নটরডেম কলেজের কাছে দেখা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাহাত হোসেনের সঙ্গে। জলাবদ্ধ সড়কে নেমে ক্ষিপ্ত হয়ে আছে তিনি। জিজ্ঞাসা করতেই ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, ‘অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু বাইরে আসার পর মনে হচ্ছে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।’
তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেক অফিসগামী যাত্রী আশরাফুল আলম বলেন, ‘যাদের আর কোনো উপায় নেই, শুধু তারাই এই শহরে থাকে।’
পুরো ৯০ মিনিটের এই যাত্রায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কোনো কর্মীকে সড়কগুলোতে পানি নিষ্কাশন বা ড্রেনেজ সচল করার কাজে দেখা যায়নি।
দুপুর ২টার দিকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহরের বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে কমলাপুরে দুটি এবং ধোলাইখালে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের সাহায্যে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন আরও জানায়, ভোর থেকেই তাদের জরুরি সাড়াদান দলগুলো ড্রেন পরিষ্কার রাখতে কাজ করছে যেন বৃষ্টির পানি সহজে নেমে যেতে পারে।
ডিএসসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের কর্মীরা সকাল থেকেই মাঠে কাজ করছেন। আমরা জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে দ্রুত স্বাভাবিক নাগরিক জীবন ফিরে আসে।’
তিনি রাজধানীবাসীকে ধৈর্য ধরার এবং এই সংকট উত্তরণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

