জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্পের উদ্যোগ আবারও আটকে দিলো আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার অধীনে সাধারণত মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া শিশুরা জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায়।

তবে কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগের একটি উদ্যোগ আদালতে বাধার মুখে পড়ার পর গত ৬ আগস্ট আবারও নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক ওই নতুন নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

এর আগে তার একই ধরনের আরও একটি উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল।

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মেরিল্যান্ড রাজ্যের জেলা জজ ডেবোরাহ বোর্ডম্যান প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প ওই নির্বাহী আদেশ জারি করেন। 

তার এই আদেশের বিরুদ্ধে অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো আবেদন জানানোর পর ডেবোরাহ বোর্ডম্যান নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধ করতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সন্তানের জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়। 

এ ধরনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ভিজিটর ভিসা পাওয়ার অনুমোদিত ভিত্তি নয়। সাম্প্রতিক আদেশেও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ লক্ষ্য করে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হয়েছিল।

বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান ৩৫ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’

নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা শিশুরা ‘জন্মের সময় থেকেই মার্কিন নাগরিক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের আগস্টের ওই আদেশ অসাংবিধানিক। এটা মোটামুটি নিশ্চিত করেই বলা যায়।’

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

উই আর কাসা নামের মেরিল্যান্ডভিত্তিক সংগঠনের আইনবিষয়ক পরিচালক শানা খাদের জানান, ‘এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে ভেস্তে গেছে। আজ আবারও এই আদালতের কাছে প্রশাসন পরাজিত হয়েছে।’

এ বিষয়ে তার প্রথম নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা অস্থায়ী ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না।

শপথ নেওয়ার পরই ওই আদেশে সই দিয়েছিলেন ট্রাম্প। 

নিম্ন আদালত ওই উদ্যোগে বাধা দিয়েছিল। 

তাদের রায়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার অধীনে মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। সুপ্রিম কোর্টও এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যপূরণের অংশ হিসেবেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নানা উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশাসন।

এর মধ্যে রয়েছে লাখো অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বহিষ্কার করা এবং এক ডজনের বেশি দেশের নাগরিকদের বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা প্রত্যাহার করা।
 

Related Articles

Latest Posts