‘ছাড়পত্রের কাগজ কোথায়? এত দেরি হচ্ছে কেন? মুন্সীগঞ্জে আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাচ্চাটাকে দাফন করতে হবে। একটা শিশুকে দ্রুত দাফন করা কি জরুরি না?’
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের রিসেপশন ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথাগুলো বলছিলেন জাকির হোসেন।
আজ ভোরে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছিল জাকির হোসেনের ভাতিজি।
জাকির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ও ছিল আমার ছোট ভাইয়ের প্রথম সন্তান। ওর শরীরটা নীল হয়ে গেছে। আমরা আর তাকে এভাবে এখানে ফেলে রাখতে পারি না।’
কিছুটা দূরে একটি হুইলচেয়ারে নিঃশব্দে বসে ছিলেন শিশুটির মা মিম আক্তার।
কয়েকদিন আগেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথমবারের মতো মা হন তিনি। কিন্তু এখন সেই সন্তানের মরদেহ নিয়েই মিম আক্তারকে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
শিশুটির দাদি মাসুদা বেগম বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শে আমরা হাসপাতালে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, কোনো জটিলতা হলে এখানে থাকাই নিরাপদ হবে।’
‘ঘটনার আগের শেষ কয়েক ঘণ্টার কথা এখনো মনে পড়ে। রাত ৩টার দিকে আমার নাতনি খুব কাঁদছিল। ওর মা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছে, ওর নানি আর আমিও পাশে ছিলাম।’
মাসুদা বেগম বলেন, ‘রোজা রাখার জন্য আমি ভোররাতে সেহরি ও ফজরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। বাচ্চাটাকে ওর মায়ের কাছে রেখে আমি ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে আসি। ফিরে এসে শুনি, আমার নাতনি আর নেই।’
আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয়টি শিশুই ছিল। তারা সবাই মারা গেছে। ঠিক কী কারণে বা কী ধরনের ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটেছে, তা এখনো অজানা। তবে সিআইডিসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তারাই বলতে পারবে প্রকৃত কারণটি কী।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের পাশেই ১১ জন প্রসূতি ছিলেন। তবে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ডটিতে এক থেকে তিন দিনের নবজাতকদের রাখা হতো। সেখানে মোট ছয়টি শিশু মারা গেছে। প্রথম শিশুর মৃত্যু হয় সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে একে একে আরও পাঁচ শিশু প্রাণ হারায়।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আসলে কী, তা আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। পুলিশ ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং সিআইডি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের পর বিশেষজ্ঞদের মতামত (এক্সপার্ট অপিনিয়ন) নিয়ে জানা যাবে কী ঘটেছিল।

