ছবিতে লাওসের গুহায় যেভাবে উদ্ধার অভিযান

লাওসের একটি গুহায় ১০ দিন ধরে আটকে থাকা আরও চার ব্যক্তিকে আজ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে। এর একদিন আগে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

মালয়েশিয়ার উদ্ধারকারী ডুবুরি লি কিয়ান লি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, গুহা থেকে পানি সেচে বের করার পর চারজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অস্থায়ী তাঁবুর নিচে স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা চারজনকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শরীরে তাপ সংরক্ষণকারী কম্বল জড়ানো ছিল।

লি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা এখন গুহার বাইরে এসেছে।’ তবে এখনও নিখোঁজ থাকা দুজনের অবস্থা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

থাইল্যান্ড রেসকিউ ডাইভার ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আরও চারজনকে গুহা থেকে বের করে আনা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ‘এ পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।’

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ মে স্বর্ণ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে মধ্য লাওসের জাইসোমবুন প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি গুহায় প্রবেশ করেন সাত ব্যক্তি। হঠাৎ বন্যার পানিতে গুহার প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা ভেতরে আটকা পড়েন।

বুধবার উদ্ধারকারীরা গুহার মুখ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে একটি সংকীর্ণ স্থানে জীবিত পাঁচজনের সন্ধান পান।

শুক্রবার প্রথম উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে দুর্গম ও পিচ্ছিল পথ পেরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।

পানি সেচে উদ্ধার অভিযান

উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বর্ষার পানি গুহা থেকে বের করে দেওয়া, যাতে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞ গুহা-ডুবুরি দলের সদস্য লি কিয়ান লি জানান, পানি কমে যাওয়া এবং ভেতরে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার ফলে উদ্ধারকাজে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তবে এখনও নিখোঁজ থাকা দুজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

লাও সায়চাই ফাউন্ডেশন শনিবার তাদের ফেসবুক পেজে আগের দিন উদ্ধার হওয়া একজনের ভিডিও প্রকাশ করে। ‘মিউড’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি জানান, নিখোঁজ দুজন তার অবস্থান থেকে আরও প্রায় ৫০০ মিটার গভীরে চলে গিয়েছিলেন।

তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে খুব ঠান্ডা। আমি আশঙ্কা করছি পরিস্থিতি ভালো নয়।’

সপ্তাহের শুরুতে উদ্ধারকারীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচ ব্যক্তি কাদা মাখা ও ক্লান্ত অবস্থায় ছিলেন। তারা বুকের ব্যথা ও তীব্র ক্ষুধার কথাও জানান।

শুক্রবার গুহার বাইরে থাই উদ্ধারকারী দল স্ট্রেচার, দড়ি ও বিশেষ কেবল ব্যবহার করে উদ্ধার প্রক্রিয়ার মহড়া দেয়।

একই দিন থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ ডুবুরিদের একটি নতুন দল লাওসে পৌঁছায়।

এই ঘটনা ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের একটি গুহায় আটকে পড়া কিশোর ফুটবল দলের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে ১৮ দিন পর এক আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

ওই অভিযানে অংশ নেওয়া দুই ডুবুরি বর্তমানে লাওসের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাজ করছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা বিশেষায়িত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছেন।

Related Articles

Latest Posts