অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন। শুরুতে মনে হচ্ছিল সেটা খুব গুরুতর কিছু না। তাকে তাই টি-টোয়েন্টি সিরিজেই রাখা হয় দলে। কিন্তু ক্রমশ লিটনের চোট থেকে ফেরার প্রক্রিয়া দীর্ঘতর হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের সফরে গিয়েও খেলতে পারেননি, এবার অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টেও নেই তিনি।
গত ১৪ জুন মিরপুরে ব্যাট করার সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ে লিটনের। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তেমন সমস্যা না পাওয়ায় টি-টোয়েন্টি সিরিজেই দলে ছিলেন। কিন্তু অস্বস্তি তার কমেনি। পরে পরীক্ষা করে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ জানায় কাফ মাসলের গ্রেড ওয়ান টিয়ারে তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি।
তিন সপ্তাহের বদলে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও লিটনের ফেরা হয়নি। জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজে দলে থেকেও পরে ব্যথা থাকায় ফিরে আসেন তিনি, লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ খেলার কথা থাকলেও যেতে পারেননি। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলেও নেই লিটন। অর্থাৎ দুই মাসের বেশি দীর্ঘ হতে যাচ্ছে কিপার-ব্যাটারের ফেরা।
লিটনের চোটের মাত্রা নিয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের পর্যবেক্ষণ যে ভুল, সেটা এর মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। এই ব্যাপারে কতগুলো প্রশ্নও উঠেছে—একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোটের অবস্থা জানতে কেন ভুল হলো? নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন, একাধিক দফায় পরীক্ষাতেও টিয়ার না আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরে গিয়ে পরীক্ষার পর কিছুটা পরিষ্কার হয় তার অবস্থা, ‘লিটনের বিষয়টাই যদি একদম শুরু থেকে বলি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে সে প্রথম চোট পায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সে দলে ছিল। তখন প্রাথমিক ডায়াগনোসিসে দেখা গিয়েছিল এটা কাফ মাসল ইনজুরি, তবে খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু যখন সে টি-টোয়েন্টি খেলতে পারল না, তখন আবার স্ক্যান করা হয় এবং সেখানে ‘গ্রেড ওয়ান টিয়ার’ ধরা পড়ে। গ্রেড ওয়ান টিয়ারে সাধারণত মেডিকেল ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয় ৩ সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়, এবং সেই সময় জুন মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।’
‘তখন টেস্টের কথা চিন্তা করে ওকে রিহ্যাবে পাঠানো হয় যেন সে প্রস্তুত হতে পারে। এখানে মেডিকেল ডিপার্টমেন্টের ভুল দেওয়া কঠিন, কারণ যখন স্ক্যান রিপোর্ট এসেছিল, তখন প্রথমে যেটা ধরা পড়েছিল সেটাই ছিল। কিন্তু সামহাউ লিটনের ব্যথা যাচ্ছিল না। আবার স্ক্যান করা হলেও নতুন কিছু আসেনি। ওডিআইতে যখন ওকে পাঠানো হলো তখন ওকে ফিট মনে হয়েছিল, কিন্তু সে আবার ব্যথার কথা জানায়।’
‘স্ক্যানে কিছু না পাওয়ায় মেডিকেল বিভাগ তো এভিডেন্সের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। পরে সিঙ্গাপুরে যে স্ক্যান করা হয়েছে, সেখানে কোনো টিয়ার ধরা পড়েনি, তবে সোয়েলিং (ফোলা) ধরা পড়েছে। এখন সে হয়তো ঠিক আছে, কিন্তু তাকে একটি প্রসেসের মাধ্যমে দলে ফিরতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম টেস্টে না থাকলেও ২২ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে পাওয়ার আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

