শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে দুই বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন এবং এক বোনের চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, এর আগে ওই দুই বোন এবং তাদের ছোট ভাইকে একটি ঘরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
গত মঙ্গলবার উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ছৈয়ালকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেদিন দুপুরেই পুলিশ তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে। শুক্রবার নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় তাদের মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই সখিপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় আবুল মোল্যার ছেলে মনির মোল্যাসহ ছয়জনকে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে আফসানা সরদার (৫০) ও মো. আমির (৩০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দুই বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই বোন ও তাদের ছোটভাইকে উদ্ধার করে। পরে তাদের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
মামলা, স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মনির মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে বড় বোনকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন ওই তরুণী তার ছোট ভাই-বোনকে নিয়ে দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সে সময় মনির তাকে কুপ্রস্তাব দেন।
এর প্রতিবাদ করলে মনির কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তিন ভাই-বোনকে দোকানের পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরে দুই বোনকে বাড়ির উঠানে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। সে সময় বড় বোনের চুলও কেটে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার তরুণী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘটনার দিন মনির আমার গায়ে হাত দিতে চাইলে আমি কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ করি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছোট বোন ও ভাইকে ধরে নিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে এবং বোনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে আমাকে ও ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমার চুল কেটে দিয়েছে এবং আমাকে জুতার মালাও পরিয়েছে। এমনকি আমাদের নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন আমি আর কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি তাদের শাস্তি চাই।’
ওই তরুণীর মা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভিডিওতে দেখছি, কত নির্মমভাবে মনির ও তার পরিবারের লোকজন আমার দুই মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মেরেছে। সরকারের কাছে একটাই দাবি, তাদের যেন কঠিন শাস্তি হয়।’
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

