চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ মেরামত শেষে রোববার থেকে ট্রেন চলাচলের আশা

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে মেরামতকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামীকাল রোববার থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হতে পারে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা ও শমসেরপাড়া এলাকার মধ্যবর্তী রেলপথের একটি অংশ প্লাবিত হওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যালাস্ট পাথর বসানোর পাশাপাশি নিচু অংশ উঁচু করার কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ দুপুরে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে রোববার সকাল থেকে ট্রেন চলাচল আবার শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের ষোলশহর প্রকৌশল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ স্থানভেদে সর্বোচ্চ দেড় ফুট পর্যন্ত উঁচু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কয়েকটি দল কাজ করছে। রোববারের মধ্যে কাজ শেষ করে রেলপথটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করতে পারব বলে আশা করছি।’

রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, বন্যার পানির স্রোতে রেললাইনের নিচ থেকে কিছু ব্যালাস্ট পাথর সরে গেলেও রেললাইন বাঁকা হয়নি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মেরামতকাজের আওতায় সরে যাওয়া ব্যালাস্ট পুনঃস্থাপন এবং নিচু অংশ উঁচু করা হচ্ছে।

রেকর্ড পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টিতে সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রেলপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর গত মঙ্গলবার ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেদিনই ৮০০-এর বেশি যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস জান আলীর হাট স্টেশনের কাছে আটকা পড়ে। পরে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সব ট্রেন চলাচল স্থগিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এরপর রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি ভবিষ্যতে বন্যার ঝুঁকি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট পর্যন্ত উঁচু করার পরিকল্পনার কথা জানান।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন হওয়া ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার রেল যোগাযোগের আওতায় আসে। বর্তমানে এ রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসসহ চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে।

ডিটিও ফারহান মাহমুদ বলেন, প্রকৌশলীরা রেলপথকে নিরাপদ ঘোষণা করার পর কোন ট্রেন দিয়ে চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ‘আজ রাতের মধ্যে রেলপথের ফিটনেস সনদ পেলে রোববার কোন ট্রেনটি প্রথম চলাচল করবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Related Articles

Latest Posts