আগের ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে উড়ে গিয়েছিলো কুরাসাও। তবে শনিবার রাতে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অবিশ্বাস্য গল্প লিখল তারা। ইকুয়েডরের মতো তাদের তুলনায় অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবার তারা হজম করেনি কোন গোল। আর এই রূপকথার ড্রয়ের নায়ক কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটিকে বিশ্বকাপে তাদের প্রথম পয়েন্ট এনে দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ সময় ভোরে বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে। এই ড্র করে এমনকি কাগজে কলমে নকআউট পর্বে যাওয়ার আশাও বাঁচিয়ে রেখেছে তারা।
দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে দ্বিতীয় হওয়া ইকুয়েডর ম্যাচে ২৮টি শট নেয়, যার মধ্যে ১৫টিই ছিল অন-টার্গেট। তবে কানসাস সিটিতে রুমের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সামনে তারা কোনো সুবিধা করতে পারেনি তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো গোলরক্ষকের ১৫টি সেভ করার ঘটনা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে কুরাসাও। প্রথম ম্যাচে বিশ্বকাপের জায়ান্ট জার্মানির কাছে গোলবন্যায় ভেসে যাওয়ার পর নিজেদের মেলে ধরল তারা।
কানসাস সিটি চিফসের হোম ভেন্যু অ্যারোহেড স্টেডিয়ামকে হলুদ সমুদ্রে পরিণত করেছিলেন ইকুয়েডরের সমর্থকেরা। গ্যালারিতে কুরাসাওয়ের সমর্থক ছিল হাতেগোনা। তবে তাদের সমর্থনে উপস্থিত ছিলেন ডাচ রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার এবং রানি মাক্সিমা। উল্লেখ্য, এই দ্বীপরাষ্ট্রটি নেদারল্যান্ডস রাজ্যের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেটের অধীনে থাকা ২৬ জনের স্কোয়াডের ২৫ জনেরই জন্ম নেদারল্যান্ডসে এবং তাদের বেশিরভাগই সেখানে ফুটবল খেলেন।
ম্যাচটি শুরু হয়েছিল বেশ গতিতে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ওয়েস্ট হ্যামের সাবেক ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া মাঝমাঠ দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়লে ইকুয়েডরের গোল পাওয়া নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, কিন্তু রুমের দুর্দান্ত ডাইভে বল পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।
অন্যপ্রান্তে কুরাসাওয়ের শেরেল ফ্লোরানুসের একটি শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়, যার মাধ্যমে তারা কাউন্টার অ্যাটাকে নিজেদের গতির জানান দেয়। ইকুয়েডর বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখলেও ভ্যালেন্সিয়া ও জর্ডি আলসিভারের প্রচেষ্টা রুমের কারণে ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে দক্ষিণ আমেরিকান দলটি ৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচের ৬০তম মিনিটের ঠিক আগে গনসালো প্লাতার একটি হেড চমৎকারভাবে রুখে দেন রুম। এরপর কুরাসাও কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কুরাসাওয়ের চেয়ে ৫০ ধাপ এগিয়ে থাকা ইকুয়েডর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ক্রমেই হতাশ হতে থাকে।
ম্যাচের শেষ দিকেও একের পর এক আক্রমণ আসতে থাকে, কিন্তু রুম ছিলেন প্রাচীরের মতো অটল। ইকুয়েডরের বদলি খেলোয়াড় অ্যাঞ্জেলো প্রেসিয়াদোর একটি ক্রস বারে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়েরা রুমকে জড়িয়ে ধরে ঐতিহাসিক এই পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দ উদ্যাপন করেন।
এর আগে, চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি টরন্টোতে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে। আর কুরাসাওয়ের এই ড্রয়ের ফলে জার্মানির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হলো। আগামী বৃহস্পতিবার ইকুয়েডর খেলবে জার্মানির বিরুদ্ধে, আর কুরাসাও মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্টের।

