‘গডজিলা এল নিনো’ কী, যেভাবে বদলে দিতে পারে বিশ্বের আবহাওয়া

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এক প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের নাম এল নিনো। এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়। বরং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে এই প্রাকৃতিক চক্র।

সাধারণ মাত্রার এল নিনো যখন অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন বিজ্ঞান সাময়িকী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে ‘গডজিলা এল নিনো’ বা ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়।

প্রশান্ত মহাসাগরের এই পরিবর্তন কীভাবে বিশ্বের আবহাওয়া, বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি এমনকি ইতিহাসেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে এল নিনো কীভাবে তৈরি হয়।

ক্যাটালিনা আইল্যান্ড মেরিন ইনস্টিটিউট ও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে শক্তিশালী বাতাস বয়ে যায়। সমুদ্রের ওপরের উষ্ণ পানি এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের দিকে ঠেলে দেয় এই বাতাস।

ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বিপুল পরিমাণ উষ্ণ পানি জমা হয়।

অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও ইকুয়েডরের উপকূলের কাছে সমুদ্রের ওপরের উষ্ণ পানি সরে যায়। তখন সমুদ্রের গভীর থেকে ঠান্ডা ও পুষ্টিকর পানি ওপরে উঠে আসে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘আপওয়েলিং’ বা গভীর সমুদ্রের পানি ওপরে উঠে আসা।

এই ঠান্ডা পানিতে মাছের খাবার হিসেবে প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি থাকে। তাই সেখানে প্রচুর ক্ষুদ্র সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ জন্মায়। এ কারণে এই প্রক্রিয়া সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র এবং স্থানীয় জেলেদের জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে যাওয়া বাতাস দুর্বল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বদলে যায়।

এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে জমে থাকা বিপুল উষ্ণ পানি তখন পূর্ব দিকে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে ফিরে আসতে শুরু করে। ফলে ওই এলাকায় সমুদ্রের গভীর থেকে ঠান্ডা পানি আর আগের মতো ওপরে উঠতে পারে না।

এ কারণে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়, মাছের খাবার কমে যায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপরও প্রভাব পড়ে। এই বড় ধরনের পরিবর্তনকেই বলা হয় এল নিনো।

পেরুর জেলেরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লক্ষ্য করে আসছেন, কয়েক বছর পরপর ডিসেম্বরের দিকে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে এবং মাছের সংখ্যা কমে যায়। বড়দিনের সময় এ ঘটনা ঘটত বলে তারা এর নাম দেন ‘এল নিনো’, যার অর্থ ‘শিশু যিশু’।

সব এল নিনো সমান শক্তিশালী নয়। কোনো কোনো সময় সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বাতাসের পরিবর্তন এতটাই বেশি হয় যে এল নিনো অস্বাভাবিক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন তাকে বলা হয় ‘সুপার এল নিনো’।

এ ধরনের অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোকেই কখনো কখনো ‘গডজিলা এল নিনো’ বলা হয়। এর মাধ্যমে এল নিনোর অস্বাভাবিক তীব্রতাকে বোঝানো হয়।

২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের এক জলবায়ু বিজ্ঞানী অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘গডজিলা’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শব্দটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এর আগে বিজ্ঞানীদের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনোকে মজা করে ‘ব্রুস লি’ বলার প্রচলনও ছিল। তবে ‘গডজিলা’ নামটি পরে এল নিনোর তীব্রতার প্রতীক হয়ে যায়।

তবে এটি শুধু গণমাধ্যমের অতিশয়োক্তি নয়। নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট অ্যালবানির আবহাওয়াবিদ ড. পল রাউন্ডি এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু গবেষক ড. ম্যান্ডি ফ্রুন্ডের গবেষণা অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণতা এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপের বড় ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

ড. রাউন্ডির মতে, সমুদ্রের ওপর বাতাসের শক্তি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতার তীব্র মিথস্ক্রিয়া এল নিনোর শক্তি বাড়ার অন্যতম কারণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরে বাতাসের চাপের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর প্রভাব ১৯৯৭-৯৮ সালের চরম এল নিনোর তুলনাতেও বেশি হতে পারে।

গডজিলা এল নিনো সক্রিয় হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে। নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের গবেষকদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের দ্রুতগতির বায়ুপ্রবাহের গতিপথও বদলে দিতে পারে।

এর প্রভাবে আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্যা, ভারী বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিপরীতে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে দেখা দিতে পারে অনাবৃষ্টি, খরা ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ।

বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়াইল্ড ফায়ার নোট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেয়। এল নিনো-জনিত চরম খরার মধ্যে দেশটির প্রায় ২৬ লাখ হেক্টর বন ও পিটভূমি পুড়ে যায়। আয়তনের দিক থেকে যা বালি দ্বীপের প্রায় সাড়ে চার গুণ।

পাম তেল চাষের জন্য স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় অনেক জায়গায় আগুন লাগানো হলেও দীর্ঘস্থায়ী খরা সেই আগুনকে মাটির নিচের পিটভূমির গভীরে ছড়িয়ে দেয়। ফলে মাসের পর মাস বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হয়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৬ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো মানুষ অকালে মারা যান।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনাগুলোর প্রভাবকে আরও তীব্র ও ধ্বংসাত্মক করে তুলতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও।

দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. রাশেদ চৌধুরী সতর্ক করেছেন যে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে ও ২০২৭ সালের শুরুতে একটি শক্তিশালী ‘ইস্টার্ন প্যাসিফিক এল নিনো’র প্রভাবে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি শুষ্কতা ও খরার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, প্রাকৃতিক ঘটনা এল নিনো এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তন এক না হলেও বিশ্ব উষ্ণায়ন এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে বাংলাদেশে আরও তীব্র করে তোলে, যার ফলে দেশের বোরো ধানের ফলন হ্রাস পেয়ে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে পারে, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়তে পারে এবং সেচ ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নদী ও জলাশয়ের পানি কমে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এই সম্ভাব্য বিপর্যয় রুখতে তিনি সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগেই কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরালো করা, খরা-সহনশীল শস্যের প্রসার, ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং ‘টোটাল ওয়েদার ইন্স্যুরেন্স’-এর মতো আবহাওয়া-ভিত্তিক ফসল বীমা ব্যবস্থা চালুর তাগিদ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি সাধারণ নাগরিকদের নিয়মিত আবহাওয়ার খবরের বিষয়ে সচেতন থাকতে এবং দৈনন্দিন জীবনে সাশ্রয়ীভাবে পানি ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এল নিনোর প্রভাব শুধু বর্তমানের আবহাওয়া বা পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজার বছর ধরে এ ধরনের জলবায়ু চক্র মানব ইতিহাসের গতিপথেও প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

বিবিসির ‘দ্য গ্লোবাল স্টোরি’ অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্বে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক ইতিহাসের অধ্যাপক পিটার ফ্রাঙ্কোপান আলোচনা করেছেন, কীভাবে অতীতের জলবায়ু পরিবর্তন রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

নাসার ঐতিহাসিক তথ্যেও এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ পাওয়া যায়।

ঐতিহাসিকদের মতে, ফরাসি বিপ্লবের আগে ইউরোপে যে চরম খরা ও ফসলহানি হয়েছিল, তার অন্যতম কারণ ছিল এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাব। খাদ্যসংকট ও রুটির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। এটি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পটভূমি তৈরি করে।

উনিশ শতকের শেষদিকে পরপর তিনটি শক্তিশালী এল নিনোর কারণে ভারত, চীন ও ব্রাজিলে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুর্ভিক্ষে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ৩ থেকে ৬ কোটি মানুষের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাব ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার ওপরও পড়ে।

ফ্রান্সিসকো পিজারোর পেরু আক্রমণের সময় এল নিনোর প্রভাবে দেশটির শুষ্ক অঞ্চলে নদী ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল এবং অনুকূল বাতাস স্প্যানিশদের নৌযাত্রায় সহায়তা করেছিল বলে নাসার ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতি ইনকা সাম্রাজ্য জয়ের ক্ষেত্রে তাদের জন্য সুবিধা তৈরি করে।

‘গডজিলা এল নিনো’ নামটি শুনে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ থাকলেও বিজ্ঞানীরা বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে বলেন।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ম্যান্ডি ফ্রুন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো কোনো হঠাৎ আঘাত হানা টাইফুন বা সুনামির মতো ঘটনা নয়। এটি ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া, যার বিকাশে কয়েক মাস সময় লাগে।

ড. ফ্রুন্ডের মতে, এল নিনোকে জলবায়ুর একটি ‘ঝুঁকির উপাদান’ হিসেবে দেখা যায়। তাসের খেলায় একটি নির্দিষ্ট চাল যেমন জেতা বা হারার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে, এল নিনোও তেমনি নির্দিষ্ট ধরনের চরম আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে ঠিক কী ধরনের আবহাওয়া হবে, তা নিশ্চিত করে না।

এমনকি শক্তিশালী এল নিনোর সময়ও অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এটি আবহাওয়ার স্বাভাবিক বিশৃঙ্খলারই অংশ।

আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুতি নিতে পারে।

নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের কৃত্রিম উপগ্রহ এবং সমুদ্রে থাকা হাজার হাজার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র নিয়মিত পানির গভীর স্তরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে ‘আরগো ফ্লোট’ নামে পরিচিত ভাসমান যন্ত্রও রয়েছে।

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদেরা কয়েক মাস আগেই এল নিনো এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন। ফলে কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্য খাতে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ড. পল রাউন্ডির মতে, শক্তিশালী ‘গডজিলা এল নিনো’ সমুদ্রের গভীর থেকে বিপুল পরিমাণ সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দিতে পারে। তাই এর পরবর্তী বছরগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কিছুটা কমে যেতে পারে।

এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতিতে সাময়িক বিরতি দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে ‘হিয়াটাস’ বা সাময়িক স্থবিরতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এর অর্থ দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।

গডজিলা এল নিনো তাই প্রকৃতির শক্তি ও জলবায়ু ব্যবস্থার জটিলতার একটি বড় উদাহরণ। এর প্রভাব সবসময় একই রকম না হলেও আধুনিক পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসব্যবস্থা মানুষকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

Related Articles

Latest Posts