খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও, নারায়ণগঞ্জের সেই ২ তরুণ কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ত সড়ক, উদ্যান ও দোকানের সামনে কালো লম্বা কুর্তা, পায়জামা ও টুপি পরে খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও তৈরি করা দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—বন্দর উপজেলার আমিন আবাসিক এলাকার শামীম আহম্মেদের ছেলে মো. লিমন তোহা (২২) ও একই এলাকার স্বপন মোল্লার ছেলে মো. ইয়াছিন মোল্লা (২৩)।

ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আজ সকালে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন।

মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, লিমন ও ইয়াসিন খেলনা বন্দুক হাতে শহরের উদ্যান, সড়ক ও দোকানের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের পরনে ছিল কালো কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি।

লিমন তার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক অ্যাকাউন্টে এসব ভিডিও প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পুলিশের নজরে আসে। পরে খোঁজ করে ভিডিওতে থাকা ওই দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আজ বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘুরে বেড়ানোর’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নগরীর নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে (সাবেক শেখ রাসেল নহর পার্ক) ধারণ করা হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে জেলা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং দুই তরুণকে শনাক্ত করে।

এতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিরা শটগান ও এসএমজি সদৃশ দুটি প্লাস্টিকের বন্দুক হাতে মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। বিনোদনের নামে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা, পথচারী ও শিশুদের ভয় দেখানো এবং সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খেলনা অস্ত্র হলেও তা দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা গুরুতর অপরাধ। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে লিমনের মা লাইজু আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, আমার ছেলে লিমন ও ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করে। অন্তত ১০ দিন আগে বন্দুক হাতে ওই ভিডিওটি নিছক ‘প্রাঙ্ক’ হিসেবে করা হয়েছিল। ভিডিওটি তৈরিতে তার বন্ধু ইয়াসিন সহযোগিতা করত। বিষয়টি এতদূর গড়াবে, তা আমরা বুঝতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, রাতে আমাদের ফোন করে থানায় ডাকা হয়। পরে জানতে পারি, খেলনা বন্দুক নিয়ে ভিডিও করাও বেআইনি। কিন্তু ওরা তো মজার ছলেই ভিডিওটি করেছিল। আমরা সাধারণ পরিবারের মানুষ, এত কিছু বুঝি না। বিদেশে এ ধরনের ভিডিও করা হয়, সেটা দেখে আমার ছেলেও এমন ভিডিও করেছিল। এখন ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।

Related Articles

Latest Posts