ক্যান্সার জয়ের পর জীবনের হিসাব-নিকাশটাই বদলে গেছে নিক ম্যাডিনসনের। কঠিন সেই দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে অজি এই ব্যাটার জানিয়েছিলেন, অসুস্থতার কারণে ছেলে অগাস্টের সঙ্গে খেলতে না পারাটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা।
সেই ম্যাডিনসনের জীবনেই গত ৭২ ঘণ্টায় ঘটে গেল অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তা। শেফিল্ড শিল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলসকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই খবর আসে—জরুরি ভিত্তিতে তাকে উড়াল দিতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার পটচেফস্ট্রুমে, জাতীয় দলে যোগ দিতে। ব্যাগি গ্রিন ক্যাপ আর পাসপোর্ট তুলে নিতে বাইরন বের বাড়িতে তড়িঘড়ি ফেরেন তিনি। যাওয়ার আগে তিন বছরের ছেলে অগাস্টের সঙ্গে বারান্দায় একপ্রস্থ ক্রিকেটও খেলে নেন। বাবা দূরে যাচ্ছেন ভেবে খুদে অগাস্টের মন খারাপ হলেও গন্তব্য ‘দক্ষিণ আফ্রিকা’ শুনেই দেশটির যত পশুপাখির নাম জানা ছিল, এক নিঃশ্বাসে তা বলতে শুরু করে সে।
জাতীয় দলে ফেরার পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে ম্যাডিনসন নিজেই যেন ধাক্কা সামলে উঠতে পারছেন না। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন নির্বাচক প্রধান জর্জ বেইলির ফোন আসে, তিনি ধারণাই করতে পারেননি কী অপেক্ষা করছে। ম্যাডিনসন বলেন, ‘ভেবেছিলাম ভারত সফরে “এ” দলে যাওয়ার কথা বলতে ফোন করেছেন। সত্যি বলতে টেস্ট স্কোয়াডের এত কাছাকাছি আছি তা মনে হয়নি, ডাকটা ছিল সত্যিই চমকপ্রদ।’
২০১৬ সালে তিনটি টেস্ট খেলার পর আর সুযোগ পাননি তিনি। ২০১৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে বাদ পড়ে ভিক্টোরিয়ায় যান। সেখানে পাঁচ বছর ভালো করার পর এনএসডব্লিউতে ফেরেন, কিন্তু ব্যাটে রান ছিল না। তার পরই জীবনে নেমে আসে ক্যান্সারের মতো বড় এক যুদ্ধ। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মাঠে ফেরেন তিনি।
২০২৫ সালের মার্চের পর আর প্রথম শ্রেণির ম্যাচ না খেললেও বা গত মৌসুমে রান না পেলেও, তা নিয়ে অজুহাত দিচ্ছেন না ম্যাডিনসন। প্রাক-মৌসুমের কড়া ফিটনেস ট্রেনিং তাকে আবার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সম্প্রতি ওয়ানডে কাপে ১২৬ রানের চমৎকার এক ইনিংসও খেলেছেন।
দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও ম্যাডিনসনের বিশ্বাস, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘উত্থান-পতন এখন আর আমাকে বিচলিত করে না। ফলাফলের চিন্তা না করে নিজের মেজাজে খেলে মাঠে ম্যাচটা উপভোগ করতে চাই।’

