গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সমিতির সদস্যরা।
সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কাপাসিয়ার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের অনেক মানুষকে সদস্য করা হয়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর অফিসে তালা দিয়ে চলে যান সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম। এরপর থেকে সেটি বন্ধ।
সমিতির সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সমিতির সদস্য ছিলেন ৪৯৬ জন। বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার। ১৫ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে বলায় অনেকে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ওই সমিতিতে জমা রেখেছেন। তাদের দাবি, সমিতিটির মূলধন বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম (৪৬) কাপাসিয়া থানার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
এদিকে, জমা টাকা ফেরত পেতে প্রতিদিন অফিসের সামনে এসে অপেক্ষা করছেন সদস্যরা। এরই মধ্যে দুই সদস্য থানায় ও আদালতে মামলা করেছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে কাপাসিয়ার রাওনাট বাজারে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনটির নিচের দোকানপাট এবং ওপরের তলায় থাকা সমিতির অফিস তালাবদ্ধ।
রাওনাট বাজার সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, ‘আবুল হাসেম পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা টাকার জন্য পাগলের মতো ঘুরছেন। বহু নারী-পুরুষ বাজারে এসে সারাদিন সমিতির সামনে অপেক্ষা করছেন জীবনের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারের জন্য।’
সমিতির সদস্য স্থানীয় বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তারা দুজন মিলে সমিতিতে এক লাখ আট হাজার টাকা রেখেছিলেন। তাদের অভিযোগ, সভাপতি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাস। তিনি জানান, সমিতিতে তার দুই লাখ ১০ হাজার টাকা জমা ছিল।
ফুলবাড়িয়া গ্রামের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি সমিতিতে ছয় লাখ টাকা রেখেছেন। টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি এখন পাগলপ্রায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুজন সদস্য অভিযোগ করেন, গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসের অধীন সমিতিগুলোতে পরিদর্শন ও নির্বাচন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি উধাও হওয়ার বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার মাহফুজুল আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম। গ্রাহকদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে অফিস খোলা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা থানায় ও গাজীপুর আদালতে দুটি মামলা করেছেন। আমরাও তদন্ত করছি।’
গত বছর সমিতির সদস্য সংখ্যা ৪৯৬ জন ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সদস্য সংখ্যা কত, তা তিনি জানেন না। তবে সমিতিতে ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমবায় অফিসার আরিফা সুলতানা শিপা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ওই সমিতির কতজন সদস্য, মূলধন কত, জরিপ বা অডিট হয় কিনা সেটাও জানা নেই।’
ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটার পর যদি জেলা সমবায় অফিসার কিছু জানেন না বলেন, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
সমিতির সভাপতি আবুল হাসেমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

