কাবরেরার আবেগঘন বিদায়ী বার্তা

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ ছাড়লেন হাভিয়ের কাবরেরা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘতম কোচিং মেয়াদের ইতি টেনে ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব ছাড়লেন এই স্প্যানিশ কোচ।

কাবরেরার বিদায়ের পরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন নাম ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজের বার্তায় সামাজিকমাধ্যম লিংকডইনে কাবরেরা লিখেছেন, ‘প্রতিটি মুহূর্তই ছিল মূল্যবান,’ আর এই সময়টাকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতায় ভরা’ হিসেবে।

তার চোখে, এই চার বছরে বাংলাদেশের ফুটবল শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও অনেকটা পথ এগিয়েছে। কয়েকশ দর্শকের সামনে খেলা থেকে আমরা পৌঁছেছি ঠাসা গ্যালারিতে অবিস্মরণীয় রাতগুলোর অভিজ্ঞতায়, এই পরিবর্তনকেই তিনি দেখছেন দলের বিকাশের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।

কাবরেরার বিশ্বাস, তার অধীনে দলটি একটি শক্ত পরিচয় এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একটি দৃঢ় পরিচয় এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করেছি,’ যা এশিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরও ধারাবাহিক লড়াইয়ে সহায়তা করেছে।

তার সময়ের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে তিনি তুলে ধরেছেন ১৪ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে পৌঁছানো, ২২ বছর পর অফিসিয়াল ম্যাচে ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ ফিফা র‍্যাঙ্কিং অর্জন। এসব অর্জনই তার কাছে প্রমাণ করে, দলটি সঠিক পথে এগোচ্ছে।

তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ নিয়েও আশাবাদী কাবরেরা। তার ভাষায়, ‘অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ২১ জন খেলোয়াড় জাতীয় দলে অভিষেক করেছে,’ যা বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম তরুণ দল হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে এবং ‘ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত’ তৈরি করেছে।

বিদায়ের মুহূর্তে কাবরেরা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। তিনি বলেন, ‘গভীর কৃতজ্ঞতা ও গর্ব অনুভব করছি,’ এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ‘বাংলাদেশ ফুটবল সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং এর সেরা সময় এখনও সামনে অপেক্ষা করছে।’

Related Articles

Latest Posts