কানাডায় ছেলে অনীকের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ববিতা। এরই মধ্যে নায়ক রাজ রাজ্জাকের ছেলে বাপ্পী ও তার পরিবারের সঙ্গেও কয়েকটি দিন কাটানোর সুযোগ হয়েছে তার। শুধু ঘরোয়া আড্ডা নয়, ববিতাকে নিয়ে ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ সড়কযাত্রায় বেরিয়েছেন বাপ্পী। ১৮ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে গেছেন, ঘুরেছেন কুইবেক ও গেসপারে, আবার ১৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ফিরেছেন। দীর্ঘ এই যাত্রায় ছিল গল্প, স্মৃতি আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে ববিতা বলেন, প্রতিবছর কানাডায় আসার আগে বাপ্পী তাকে ফোন করে জানতে চান, কবে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ছেলে অনীকের বাসায় কিছুদিন থাকার পর এবার বাপ্পীর বাসায় বেড়াতে গেছেন তিনি।
‘বাপ্পী তো রাজ্জাক ভাইয়ের ছেলে। আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক, অনেক দিনের। এখানে এসে আমরা ঘুরছি, খাচ্ছি, গল্প করছি। বাপ্পীর স্ত্রী খুব ভালো রান্না করেন। তার রান্না খেতে খুব ভালো লাগে। বাপ্পীর দুই সন্তানও দারুণ,’ বলেন ববিতা।
বাপ্পীর সন্তানদের সঙ্গে আড্ডায় বারবার ফিরে আসছে রাজ্জাকের প্রসঙ্গ। দাদাভাইকে নিয়ে নানা গল্প শুনতে আগ্রহী তারা। ববিতাও পুরোনো দিনের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসছেন।
ববিতা বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের বিপরীতে অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছি। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমাতেও কাজ করেছি। কত সুন্দর সময় আমরা পার করেছি! সেই সময়ের গল্প বাপ্পীর সন্তানদের বলতে ভালোই লাগে। ওরাও খুব আগ্রহ নিয়ে শোনে।’
তবে এবারের সফরের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা সম্ভবত বাপ্পীর সঙ্গে সেই ৩৬ ঘণ্টার সড়কযাত্রা। ববিতা জানান, ১৮ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তারা কুইবেক গেছেন। সেখানে ঘোরাঘুরির পর আরও সুন্দর একটি জায়গা গেসপারে যান। একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে পাহাড়—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য তাকে মুগ্ধ করেছে।
‘সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ এখনো কানে বাজে। সমুদ্রের কাছে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ছিল। তারপরও সবাই মিলে খুব উপভোগ করেছি। যেতে যেতে কত গল্প করেছি, ফেরার সময়ও গল্প করতে করতে ফিরেছি,’ বলেন ববিতা।
বাপ্পীর বাসায় ফিরেও অবশ্য গল্পের শেষ নেই। পুরোনো দিনের সিনেমার শুটিং, রাজ্জাকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে যেন কয়েক দশক আগের দিনগুলোতেই ফিরে যাচ্ছেন ববিতা।
‘সত্যি বলতে, বাপ্পীর বাসায় রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গে পুরোনো দিনের শুটিংয়ের গল্প করতে করতে অনেক পেছনের দিনগুলোতে ফিরে যাই। আর ওদের আতিথেয়তার কথা বলে শেষ করতে পারব না,’ বলেন তিনি।
বাপ্পীর বাসায় কয়েক দিন কাটিয়ে আবার ছেলে অনীকের কাছে ফিরবেন ববিতা। এরপর কানাডায় এক কাজিনের বাসায় যাবেন। সেখান থেকে আমেরিকায় দুই ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিছুদিন পর আবার কানাডায় ফিরবেন ছেলের কাছে।
কানাডায় সময় কাটানোর আরেকটি প্রিয় কাজও আছে ববিতার বাগান করা। ‘অনীকের বাসায় প্রতিবছর আসার পর বাগান করি। এবারও করেছি। গাছ লাগানো আর বাগানের পরিচর্যা করতে খুব ভালো লাগে,’ বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে এবারের কানাডা সফরটা বেশ উপভোগ করছেন ববিতা। তার ভাষায়, ‘কানাডায় দারুণ সময় কাটছে। বিশেষ করে রাজ্জাক ভাইয়ের ছেলে বাপ্পী ও তার পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো দুর্দান্ত।’
নভেম্বরে দেশে ফেরার আশা করছেন এই অভিনেত্রী।

