সংকটের মধ্যে থাকা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির প্রধান কোচ হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন পেপ গার্দিওলা। দায়িত্ব নিতে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, রীতিমতো কাগজের টুকরোতে আজ্জুরিদের সম্ভাব্য ফরমেশন আঁকতেও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। এই অজানা অধ্যায়টি এবার সামনে এনেছেন পাওলো মালদিনি।
ইতালিয়ান দৈনিক কোরিয়েরে দেল্লা সেরাকে একটি বিশদ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কিংবদন্তি ফুটবলার মালদিনি। গত মাসে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। তার প্রধান কাজ ছিল গত টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ জাতীয় দলের জন্য নতুন কোচ খুঁজে বের করা এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজানো। কিন্তু ফেডারেশনের প্রধান জিওভান্নি মালাগোর সঙ্গে নীতিগত দ্বিমতের কারণে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ১৭ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন মালদিনি ও তার উপদেষ্টা লিওনার্দো।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হওয়ার পরপর গার্দিওলার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মালদিনি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা (তিনি ও লিওনার্দো) বার্সেলোনায় তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম, একসাথে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম, সারা দিন কথা বলেছিলাম। তিনি (ইতালির কোচ হওয়ার ব্যাপারে) বেশ আগ্রহী ছিলেন এবং রাজি হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। এমনকি কাগজের টুকরোতে (দলের জন্য সম্ভাব্য) ফরমেশন আঁকাও শুরু করে দিয়েছিলেন।’
ইতালির কোচ হতে গার্দিওলার বিপুল অঙ্কের (বছরে ২ কোটি ইউরো) বেতন দাবি করার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মালদিনি পরিষ্কার করেছেন, ‘একেবারেই না। টাকা কোনো বিষয়ই ছিল না। পেপ আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন— আগের কোচ যা পেতেন, তাকে তার চেয়ে এক ইউরো কম দিলেও তিনি খুশি।’
তাহলে শেষ পর্যন্ত কেন দায়িত্ব নেননি বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক কোচ গার্দিওলা? সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার মালদিনি জবাব দিয়েছেন, ‘অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে। (সিটির কোচ হিসেবে) প্রিমিয়ার লিগে টানা ১০ বছরের খাটুনির পর গার্দিওলা বেশ ক্লান্ত। তার পিঠে সার্জারি হয়েছে, তিনি বিশ্রাম চান। তবে আমাদের আলোচনাটা বেশ গভীর ছিল। আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে শুরু করে ওপরের দিকের স্কোয়াডগুলো নিয়েও পর্যালোচনা করেছিলাম।’
গার্দিওলার আগে কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল আজ্জুরিদের কোচ হওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন। এরপর মালদিনি আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও কৌশলনির্ভর একটি দল গড়তে অপেক্ষাকৃত তরুণ কোচদের দিকে নজর দেন। তার প্রাথমিক তালিকায় ছিল তিন বিশ্বকাপজয়ী তারকা— আন্দ্রেয়া পিরলো, দানিয়েলে দে রসি ও ফাবিও গ্রোসো।
মালদিনি আরও জানিয়েছেন, এই তিনজনের মধ্য থেকে তিনি মূলত পিরলোকেই চূড়ান্ত করেছিলেন। কিন্তু গত জুন থেকে এফআইজিসির সভাপতির দায়িত্বে থাকা মালাগো পিরলোকে নিয়োগের সিদ্ধান্তে হঠাৎ ভেটো দিয়ে বসেন। এই অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ এবং দুজনের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের কারণেই মালদিনি পদত্যাগ করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
নানা নাটকীয়তার পর শেষমেশ ইতালিয়ান ফেডারেশন নতুন কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে রবার্তো মানচিনিকে। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দলটির কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি আজ্জুরিদের সঙ্গে কাজ করেছেন।
মালদিনি খোলাসা করেছেন, তিনি মানচিনিকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। তবে এর কারণ মালদিনিকে মূল্যায়ন না করা কিংবা কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়। বরং তিনি চেয়েছিলেন তরুণ কোনো কোচকে দিয়ে ৮-১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ইতালি জাতীয় ফুটবল দলকে পুনর্গঠন করা।

