এই পাকিস্তান দল তো খুবই অর্ডিনারি: কার্তিক

পাকিস্তানের ক্রিকেটে যেন চারদিক থেকেই বইছে চরম অস্বস্তির হাওয়া। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারার পর প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একের পর এক তোপের মুখে বাবর আজমের দল। সিরিজজুড়ে সফরকারীদের নূন্যতম লড়াই করার মানসিকতা না দেখে আগে থেকেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন নাসের হুসেইন, মাইকেল ভন ও স্টুয়ার্ট ব্রডরা। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন সাবেক ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার দীনেশ কার্তিক।

পুরো সিরিজে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে খুব কাছ থেকে বাবরদের পারফরম্যান্স দেখেছেন কার্তিক। মাঠের খেলায় তাদের নিস্তেজ মানসিকতা দেখে আগেই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে রীতিমতো তুলোধোনা করলেন পুরো দলকে। কথাপ্রসঙ্গে কখনো হয়তো সামান্য সহানুভূতি দেখিয়েছেন, কিন্তু মোটের ওপর তা ছিল এক নির্মম ব্যবচ্ছেদ।

ভিডিওতে বেশ কড়া সুরেই কার্তিক বলেন, ‘ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ কাভার করতে গিয়ে একটা জিনিসই বারবার মনে হয়েছে—এই পাকিস্তান দল তো খুবই অর্ডিনারি! প্রথম দুটি টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে তারা সাকুল্যে ৯০ ওভারও ব্যাটিং করতে পারেনি! পিচে বোলারদের জন্য কিছুটা সুবিধা ছিল সত্যি, কিন্তু এমন কোনো ভূত ছিল না যে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯০ ওভারও উইকেটে টিকে থাকা যাবে না। টেস্ট ক্রিকেটের পর্যায়ে এই ব্যাটিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ 

‘নাসের হুসেইন একদম ঠিক কথা বলেছেন, এভাবে খেলে তারা আদতে টেস্ট ক্রিকেটেরই ক্ষতি করছে। পরপর দুই ম্যাচ হেরে তারা স্কোয়াডে সাত-সাতটি বদল আনল, ছাঁটাই করা হলো হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ আর বোলিং কোচ উমর গুলকে। শেষ ম্যাচে এসে তারা কেবল কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল।’

দলের ভেতরের লেজেগোবরে অবস্থা আর বিশৃঙ্খলা নিয়ে আরও তোপ দাগেন কার্তিক, ‘রাজাউল্লাহর কথাই ধরুন, শেষ টেস্টে এসে ছেলেটি এত দারুণ বল করল; অথচ তাকে শুরু থেকে দলে রাখা হয়নি কেন? ওদের নির্বাচকেরা আসলে কী ভাবছেন? কিসের ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাছাই হচ্ছে? ঘন ঘন অধিনায়ক আর কোচ বদলে পুরো পরিবেশটাই এখন অস্থির। যার স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে মাঠের পারফরম্যান্সে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে তাদের খেলা দেখে একবারও মনে হয়নি তারা আসল প্রতিযোগিতাটা দিতে পারছে। সত্যি বলতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের অধিকাংশ টেস্ট দলের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার কোনো সামর্থ্যই এই পাকিস্তানের নেই—যা অত্যন্ত হতাশাজনক।’

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মনে করিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত এক প্রকার সতর্কবার্তাই দিয়ে রাখলেন কার্তিক, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু বর্তমান দলটা সেই ঐতিহ্যের আশেপাশেও নেই। যা দেখছি, তা কিন্তু চূড়ান্ত অ্যালার্মিং। আশা করি নীতিনির্ধারকেরা সময় থাকতে বিষয়টা অনুধাবন করবেন এবং দলকে আবার সঠিক পথে ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। যদিও এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো মোটেও সহজ কাজ নয়।’

 

Related Articles

Latest Posts