রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবন আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই আমাদের মহান ব্রত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, এই দিনে আমাদের নতুন করে অনুধাবন করতে হবে, যদি আমরা শান্তির পথে থাকি, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবন আদর্শকে অনুসরণ করি এবং মিয়ারে হক হিসেবে রাসূল (সা.) এর সাহাবিদের জীবন আদর্শকে অনুসরণ করি, তাহলে দেশে কোনো অশান্তি-বিশৃঙ্খলা ও অসাম্য থাকবে না।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা ইসলামের শান্তির মহাবাণী অনুসরণ করি, তাহলে বিশ্বে কোনো যুদ্ধবিগ্রহ থাকে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা হয় এবং সমাজে কোনো শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে না। কিন্তু আমরা সেই বাণী, সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি।
তিনি বলেন, আজকে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধময় পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলায় একটা জিনিসই উপলব্ধিতে আসে, স্বার্থের সংঘাত, অর্থনৈতিক সংঘাত ও পরস্পর স্বার্থের জন্য যুদ্ধবিগ্রহ—এগুলো কোনো কিছুই থাকবে না, যদি আমরা শান্তির পথে, সাম্যের পথে থাকি এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি। আজকের এই দিনে এটাই হোক আমাদের শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দেখানো ও অনুশীলনকৃত পথ আমরা অনুসরণ করে আমাদের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি।
এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সালাহউদ্দিন বলেন, যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা পেয়েছি, যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, যে আকাশসম উচ্চতার জনপ্রত্যাশা আমরা পেয়েছি, আমাদের যে প্রত্যাশা আছে, সব কিছু আমাদের একইসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, মনোবল বৃদ্ধি করা, তাদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা—এই কাজগুলো একসঙ্গে করতে হবে, যা আমরা করে যাচ্ছি।
‘সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে, এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে নাই বা বিচারের আওতায় আনতে পারে নাই। এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব,’ যোগ করেন তিনি।
পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ রকম (শিশু) রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয় নাই, প্রত্যেকটা অপরাধ আমরা অ্যাড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পেরেছি, আদালতের কাছে সোপর্দ করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষেত্র মতে সমাজের চাহিদা অনুসারে, সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্য সমাপ্ত করার জন্য সহযোগিতা করেছি। সব কিছু আপনারা জানেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না। তবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বাংলাদেশের এই পুলিশ বাহিনী জনপ্রত্যাশিত, জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত হবে।’
অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের জন্য দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।’
‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না,’ যোগ করেন তিনি।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

