দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ উদ্বেগ জানান।
জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ইইউ মিশনের প্রধান ইভার্স ইয়াবসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার ইন্টা লেইস, লিগ্যাল অ্যানালিস্ট ইরিনি মারিয়া গোওনারি ও রায়ান ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে ইভার্স ইয়াবস বিরোধীদলীয় নেতার সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ সময় বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের একটি প্রতিবেদন শফিকুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বৈঠকে সফররত ইইউ প্রতিনিধি দল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চায়।
জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নির্বাচন, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবে একমত হলেও পরে সেগুলোর বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।
এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
অন্যদিকে, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন তারা।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইভার্স ইয়াবস বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সবচেয়ে ভালো উপায় অনুসরণ করে আমরা আমাদের কাজটা করেছি এবং ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে—এমন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা দেখিনি। সুতরাং এ রকম কিছু সেখানে ছিল না।’

