শেষ মুহূর্তে ভাগ্য খুলে গেল মার্কোস সেনেসির। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল থেকে বাদ পড়ার হতাশা কাটিয়ে অবশেষে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন এই ডিফেন্ডার। আর সেই ডাক পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ লুকাতে পারেননি তিনি।
মার্কোস সেনেসি বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে বলেন, ‘আমি এখন সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি এবং যত দ্রুত সম্ভব যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব শিগগিরই দেখা হবে। আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।’
২৯ বছর বয়সী সেনেসির জন্য এটি হতে যাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ। আর সেই সুযোগ এসেছে এক সতীর্থের দুর্ভাগ্যজনক চোটের কারণে।
আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি পেশিতে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। তার পরিবর্তে কাকে নেওয়া হবে, তা নিয়ে কিছুদিন ধরেই ভাবছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেনেসির দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সামান্য চোট এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা স্কালোনির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ফলে নতুন করে একজন ডিফেন্ডার যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিলে সেনেসিকেই বেছে নেওয়া হয়।
ডাক পাওয়ার সময় সেনেসি স্পেনের ইবিজায় নিজের বান্ধবীর সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে একদিনের জন্যও অনুশীলন বন্ধ করেননি তিনি। সেই প্রস্তুতিরই পুরস্কার মিলেছে বিশ্বকাপের টিকিট হিসেবে।
সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার্সে যোগ দিয়েছেন সেনেসি। গত সপ্তাহেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয় ক্লাবটি। নতুন দলে গিয়ে তিনি খেলবেন স্বদেশি সতীর্থ ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে, যিনি ক্লাবটির অধিনায়কও। বিশ্বকাপেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে।
গত মৌসুমে বোর্নমাউথের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন সেনেসি। প্রিমিয়ার লিগে দলটির ষষ্ঠ স্থান অর্জন এবং ইউরোপা লিগে জায়গা করে নেওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। চার মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে ১২৯ ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ছয়টি গোল।
তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোরও নজর কাড়ে। এমনকি বার্সেলোনার আগ্রহের খবরও শোনা গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ফ্রি এজেন্ট হিসেবে টটেনহ্যামে যোগ দেন তিনি।

