আমার ছেলে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে, তা ওপরওয়ালাই জানেন: লিমনের বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকালে তার মরদেহ বহনকারী একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন লিমনের পরিবারের সদস্যরা। লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, তিনি ছেলেকে অনেক যত্ন করে বড় করেছেন এবং কখনোই তাকে কষ্ট দেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে দুইটাকে তিলে তিলে বড় করার চেষ্টা করেছি, কোনো প্রকার কষ্ট দিইনি, কোনো প্রকার আঘাত করিনি। কোনোদিন শারীরিক শাস্তি দিইনি ওদের। যা শাসন করেছি, আমি মুখে শাসন করেছি। আমি কখনো কল্পনাও করিনি, আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘সে কী কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে, তা ওপরওয়ালাই জানেন।’

লিমনের এক আত্মীয় জানান, মরদেহ জামালপুরের মাদারগঞ্জে তার পৈত্রিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে মাগরিবের নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার আগে লিমনের রুমমেটের সঙ্গে ঝগড়ার বিষয়ে পরিবার কোনো আভাস পায়নি।

ওই আত্মীয় বলেন, সে তার রুমমেটের সঙ্গে কোনো ঝগড়া বা সমস্যার কথা কখনো পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করেনি। সবকিছু স্বাভাবিক বলেই মনে হতো। আমরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র— দুই দেশের সরকারের কাছেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি ছাত্র ছিলেন ২৭ বছরের তরুণ লিমন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি এবং বৃষ্টি নামের আরেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার একটি ব্রিজের কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর ২৬ এপ্রিল জেলেরা পাশের একটি জঙ্গল (ম্যানগ্রোভ) থেকে বৃষ্টির মরদেহের খণ্ডিত অংশ খুঁজে পায়।

Related Articles

Latest Posts