`আমাদের বাচ্চাকাচ্চা প্রায় সবাই অসুস্থ। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আমাদের জন্য একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবনডা একটু বাঁচান।’
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পুশ ইন-পুশ ব্যাকের টানাপোড়েনে পড়ে তিন দিন ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুরে শূন্যরেখায় আটকে আছেন ১২ জন। তাদের একটি ভিডিও এসেছে দ্য ডেইলি স্টারের হাতে।
আজ রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ধারণ করা ৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নীল রঙের একটি পলিথিনের ওপর গাদাগাদি করে বসে আছেন কয়েকজন নারী-পুরুষ ও শিশু। দুটি শিশু ঘুমিয়ে আছে—একটি মায়ের কোলে, অন্যটি পাশে। আরেকটি শিশু বসে থাকলেও তাকে বেশ অসুস্থ দেখাচ্ছিল।
ভিডিওতে তাদেরই একজন ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, খুবই গরমের ভেতর বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমরা টিকতে পারছি না। আপনারা আমাদের একটা ব্যবস্থা করেন, নয়ত আমাদের যা করবেন, আপনারা করেন। জীবনে আর সহ্য হচ্ছে না। বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে আমরা খুবই অসহায়ের ভেতর আছি।’
তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের কাছে ডকুমেন্ট সব আছে। আপনারা দেখেন আমরা কী, এদের নাগরিক না রোহিঙ্গা। আপনারা এইডা তদন্ত করে দেখেন।’
গত শুক্রবার ভোররাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ওই ১২ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘হাসিব মার্কেটে’ চলে আসলে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেয়। পরবর্তীতে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের আবার সীমান্তের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠানো হয়।
এরপর থেকে সীমান্তঘেঁষা মাথাভাঙ্গা নদীর তীর সংলগ্ন একটি পাটক্ষেতের আইলে তপ্ত রোদ আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার রাত পার করছেন এই গৃহহীন মানুষগুলো। স্থানীয় বাংলাদেশিরা মাঝে মাঝে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তাদের খাবার-পানি দিয়ে আসছেন। আজ তৃতীয় দিনের মতোও তাদের সেখানেই অবস্থান করতে হচ্ছে।
এদিকে শুক্রবারের এই পুশইন ও পুশব্যাক ঘটনার পর গতকাল শনিবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিএসএফ ওই ১২ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে। সেটি শেষ হলে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। আপাতত বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।
তবে বিজিবির এই আশ্বাসের পর আরও একটি দিন কেটে গেলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।

