আইপিএলের সবচেয়ে চর্চিত আর বিতর্কিত ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মটি রাখা না-রাখা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিবিআই)। এই বাড়তি খেলোয়াড়ের নিয়ম নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। বিশেষ করে গত আসরে বোলারদের ওপর যেভাবে তণ্ডবলীলা চলেছে আর একের পর এক রানের পাহাড় গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। এবার এ বিষয়েই প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পষ্ট মতামত চেয়েছে বোর্ড। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দলগুলোকে তাদের বক্তব্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
অবশ্য কেবল ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারই নয়; ড্রেসিংরুম ও দলের সংরক্ষিত এলাকার (পিএমওএ) নিরাপত্তাবিধি, আম্পায়ারিং, অনুশীলন এবং টুর্নামেন্টের খেলার ধরন নিয়েও খোলামেলা প্রতিক্রিয়া চেয়েছে বিসিবিআই। তবে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজে আসা তথ্যানুযায়ী, দলগুলোর কাছে পাঠানো বার্তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে এই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার বিতর্ক।
প্রতি মৌসুম শেষে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া নেওয়া আইপিএলের একটা নিয়মিত নিয়ম। তবে এবারের চিত্রটা একটু আলাদা। ধারণা করা হচ্ছিল, বিতর্ক সত্ত্বেও অন্তত আগামী আসরে এই নিয়মটা বজায় থাকবে। গত মৌসুম শুরু হওয়ার আগে অধিনায়কদের বৈঠকে বিসিবিআই ও আইপিএল কর্তারাও তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন। তবে এখন হুট করে এই নিয়ম নিয়ে নতুন করে মতামত চাওয়াটা বেশ চমক হিসেবেই এসেছে। মজার ব্যাপার হলো, বোর্ড তাদের সাম্প্রতিক চিঠিতে অধিনায়কদের সেই বৈঠকের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
রোহিত শর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল কিংবা শুভমান গিলের মতো নামি তারকারা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এই নিয়মের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এই নিয়ম ক্রিকেটের আসল ভারসাম্য নষ্ট করছে। অবশ্য আইপিএলের অন্দরে এর সমর্থকও কিন্তু একেবারে কম নয়। ফলে যে বিষয়টি একরকম স্থির হয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হওয়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী মৌসুমে আদৌ নিয়মটি টিকে থাকবে, নাকি বাতিল হবে—তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পাঠানো ইমেইলে বিসিবিআই লিখেছে, ‘আইপিএল ২০২৬-এর অধিনায়কদের বৈঠকে ঠিক করা হয়েছিল যে টুর্নামেন্ট শেষে ক্রিকেট অপারেশন্সের মূল বিষয়গুলো নিয়ে সব দলের মতামত নেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী আপনাদের নিজ নিজ ক্রিকেট অপারেশন টিমের সঙ্গে কথা বলে সম্মিলিত মতামত আমাদের জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।’
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আপনাদের মতামত আমাদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করুন। এতে সব দলের প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করে আগামী মৌসুমের আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপনাদের মতামত পাব বলে আশা করছি।’
ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের বাইরেও গত আইপিএলে বড়সড় বিতর্ক উঠেছিল পিএমওএ এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষের যাতায়াত ঘিরে, যা ছিল দুর্নীতিবিরোধী বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাধ্য হয়ে আসরের মাঝপথেই খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও দলগুলোর মালিকদের জন্য কড়া নির্দেশনা জারি করতে হয়েছিল বিসিবিআইকে। এবারের চিঠিতেও ‘ম্যাচ ডের আনুষঙ্গিক বিষয়’ শিরোনামের অধীনে ক্যাটারিংয়ের পাশাপাশি পিএমওএ অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

