হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে করা এক মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের সভাপতি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সরোয়ার আলম খান জানান, রোববার দিবাগত মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর মন্দির থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) ইউনিট গত রোববার শেষ রাতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হরিদাস এবং তার অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিন সহযোগী ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত একটি সংঘবদ্ধ হুন্ডি চক্র পরিচালনা করতেন। তারা দেশি-বিদেশি মুদ্রার অবৈধ লেনদেন ও স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি হরিদাসের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময়ে ‘সন্দেহজনক উৎস’ থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পেয়েছে। ব্যাংক হিসাবগুলো দুটি বেসরকারি ব্যাংকে এবং এমএফএস হিসাবগুলো বিকাশ, নগদ ও রকেটে পরিচালিত হতো।
পরে দেওয়া সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ব্যক্তি হরিদাসের এসব অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা দিয়েছেন। অথচ তার কোনো পরিচিত বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি এবং এসব লেনদেন তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মামলার বিবরণে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই অর্থ হুন্ডি কার্যক্রম থেকে এসেছে। পরে অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি, অবস্থান ও মালিকানা গোপন করার উদ্দেশ্যে তা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও বিভিন্নভাবে রূপান্তর করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই অর্থ দিয়ে হরিদাস নিজের নামে এবং অন্যের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে অর্থপাচারের পরিমাণ বাড়তেও বা কমতেও পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, হরিদাস বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকলের রেকর্ড দেখাতেন বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুসন্ধানে হরিদাসের বিরুদ্ধে এর আগে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় দায়ের করা একটি মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে।
সিআইডির ভাষ্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি, ব্যাংকিং নথিপত্র, অন্যান্য রেকর্ড এবং তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়েছে।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার যে মন্দিরটির সভাপতি, সেই মন্দির প্রাঙ্গণে একটি ৮০ ফুট উচ্চতার শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর দেশজুড়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

