অভিবাসনপ্রত্যাশী ঠেকাতে নৌবাহিনী ব্যবহারের অঙ্গীকার করলেন নাইজেল ফারাজ

শিরোনাম দেখে অনেকের মনেই এই ভাবনা আসতে পারে—কে এই নাইজেল ফারাজ? যুক্তরাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল কনজারভেটিভ পার্টি ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পর অপর একটি জনপ্রিয় দল আছে। সেই কট্টর-ডানপন্থি রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা হলেন নাইজেল ফারাজ।

গত প্রায় দেড় বছর ধরে তার দলটি যুক্তরাজ্যের সব জনমত জরিপে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল।

ক্ষমতায় এলে রিফর্ম ইউকে দল ছোট নৌকায় চেপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া ঠেকাতে সার্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা নৌবাহিনীকে কাজে লাগাবে।

দলটি দাবি করেছে, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে তারা ইংলিশ চ্যানেলে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান’ চালাবে।

আজ সোমবার রিফর্ম পার্টির এই পরিকল্পনার বিষয়টি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রস্তাবকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

মরক্কো থেকে হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় প্রবেশের কয়েক দিনের মধ্যে এই প্রস্তাব দিয়েছে রিফর্ম পার্টি।

ঘটনাটি ইউরোপে আবারও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

ব্রেক্সিটপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী দলটি জানিয়েছে, শিগগির অভিবাসনপ্রত্যাশী বহনকারী ছোট নৌকাগুলো ‘ফ্রান্সে ফিরিয়ে দিতে’ ব্রিটিশ নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

২০২০ সালে কনজারভেটিভ সরকারও এমন একটি নীতি প্রস্তাব করেছিল।

তবে দ্রুত তা থেকে সরে আসে দলটি।

২০২০ সালের মতো এবারও সামরিক বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলগুলো বলেছে, এ পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। এমনকি এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতাও ব্রিটেনের নেই।

এমন সময়ে এই প্রস্তাব দেওয়া হলো, যখন প্রায় দেড় বছর ধরে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ফারাজ ও তার দল রিফর্ম ইউকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেই অবস্থান হারিয়েছে।

দলটি একাধিক কেলেঙ্কারি ও তাদের অর্থায়ন নিয়ে সরকারি তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার সোমবার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে তিনি দলের উপনেতা রিচার্ড টাইসের বিরুদ্ধে আর্থিক স্বার্থের তথ্য ঘোষণা না করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছেন।

এর আগে পার্লামেন্টের নিয়ম ভঙ্গের পৃথক এক অভিযোগে ফারাজের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছিল।

তবে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচনে অংশ নিতে তিনি সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেওয়ায় সেই তদন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে।

ইউরোপের অন্যান্য কট্টর-ডানপন্থি দলের মতো রিফর্ম ইউকের আইনপ্রণেতারাও গত সপ্তাহে স্পেনের সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

পরিকল্পনা প্রকাশের আগে দলের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ বলেন, ‘রিফর্ম ইউকে ইংলিশ চ্যানেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করে এর জবাব দেবে।’

সপ্তাহান্তে তিনি সেউতা সফর করেন।

তিনি বলেন, ‘নাইজেল ফারাজ ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীকে এমন নির্দেশ দেবেন, যাতে অনুমোদনহীন একটি নৌযানও ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যের উপকূলে পৌঁছাতে না পারে।’

‘যারা এ চেষ্টা করবে, তাদের আমাদের সশস্ত্র বাহিনী আটক করবে এবং ফ্রান্সে ফিরিয়ে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রান্স যদি এতে আপত্তি জানায়, তাহলে আমরা এ বিষয়ে ফ্রান্সকে দেওয়া অর্থ নিয়ে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরব এবং কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করব।’

অনিয়মিত অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ চ্যানেল পাড়ি ঠেকাতে গত এপ্রিল মাসে ব্রিটেন ও ফ্রান্স নতুন তিন বছরের একটি চুক্তি সই করে।

এর আওতায় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিনিময়ে লন্ডন প্যারিসকে সর্বোচ্চ ৭৬ কোটি ৬০ লাখ ইউরো দেবে।

রয়্যাল নেভির সাবেক কমান্ডার টম শার্প এএফপিকে বলেন, রিফর্ম ইউকের পরিকল্পনা ‘আসলে সমস্যার সমাধান নয়’।

তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনী অনেক কিছুই করতে পারে। কিন্তু ফ্রান্সের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানুষকে সেখানে ফেরত পাঠানোর ধারণা আমার কাছে মোটেও বাস্তবসম্মত মনে হয় না।’

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে ১৪ হাজার ২৮১ জন অবৈধ অভিবাসী দেশটিতে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ শতাংশের বেশি কম। তবে ২৯ জুলাই এক দিনেই ৭৫২ জন পৌঁছানোর মাধ্যমে নতুন দৈনিক রেকর্ড গড়ে ওঠে।

Related Articles

Latest Posts